মাদকের বাড়বাড়ন্ত কেন? মন্ত্রীকে প্রশ্ন করতেই ‘শাসানি’, পাঞ্জাবে ‘আত্মঘাতী’ অসহায় কৃষক

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


মাদকে ছেয়ে যাচ্ছে গোটা গ্রাম। এমনকি নিজের ছেলেও মাদকের গ্রাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এক বাবা, রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর কাছে। এত ‘সাহস’ পছন্দ হয়নি ‘শাসকে’র। ডেকে এনে শাসানি দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। তারপরই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। ভোটমুখী পাঞ্জাবে এহেন ঘটনায় প্রবল চাঞ্চল্য।

মৃতের নাম গুলজার সিং, পেশায় কৃষক। তুর বানজারা গ্রামের বাসিন্দা গুলজারের বড় ছেলে চিট্টা মাদকের নেশায় চুর হয়ে থাকে। ওই গ্রামের একাধিক যুবকের মধ্যেই থাবা বসিয়েছে এই মাদক। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন গুলজার। দিনকয়েক আগে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা। তাঁর সভায় গুলজার প্রশ্ন তোলেন, মাদকের বাড়বাড়ন্ত রুখতে সরকার কেন পদক্ষেপ করেনি? কেন তাঁর ছেলের হাতে মাদক এসে পৌঁছল? কেন আটকানো হয়নি?

আরও পড়ুন:

ভরা সভায় প্রশ্ন করতেই গুলজারকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। ৪৬ বছর বয়সি গুলজারের পরিবার জানাচ্ছে, বিকেলবেলায় তাঁকে ডেকে পাঠান পঞ্চায়েত সদস্য এবং অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা। রীতিমতো ভয় দেখানো হয় তাঁকে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পরের সভায় প্রকাশ্যে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে গুলজারকে। তারপরই বিষ খান তিনি, এমনটাই দাবি পরিবারের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারবার হাসপাতাল বদল করতে হয় গুলজারকে। এমনকি সরকারি হাসপাতালে ২ ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার রাতে গুলজারের মৃত্যু হয়।

এই মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের রাজনীতি। মৃত্যুর আগে শেষ ভিডিও বার্তায় তিনি অর্থমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছিলেন। সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। তোপ দেগেছেন পাঞ্জাবের আপ সরকারকে। অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবিতে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস-শিরোমণি অকালি দল। যদিও পঞ্চায়েতের নেতাদের দাবি, তাঁরা মোটেই গুলজারকে হুমকি দেননি। গোটা ঘটনায় আপ এখনও নীরব। পুলিশের তরফেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কয়েকদিন আগে অভিযোগ উঠেছিল, টাকা নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দিচ্ছে ভগবন্ত মানের সরকার। এবার নয়া অভিযোগে বিদ্ধ তারা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *