মহালয়ার আগে কীভাবে কাটাবেন পিতৃদোষ, কবে থেকে শুরু পিতৃপক্ষ?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


দেবীপক্ষের সূচনার ঠিক আগেই আসে এক পরম পবিত্র সময়। সনাতন ধর্মে এই বিশেষ পক্ষকালই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত। প্রাত্যহিক জীবনের চরম ব্যস্ততা ঠেলে মানুষ এই দিনগুলিতেই স্মরণের অর্ঘ্য পাঠায় নিজের শিকড়ের উদ্দেশ্যে। প্রয়াত পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের এই পক্ষকাল অত্যন্ত পবিত্র। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ সম্পন্ন করলে পূর্বপুরুষের আত্মা শান্তি লাভ করে। গৃহস্থের উপর বর্ষিত হয় পূর্বজদের প্রীত আশীর্বাদ। কাটে দীর্ঘদিনের পিতৃদোষ।

ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন:

কবে শুরু হচ্ছে পিতৃপক্ষ?
পঞ্জিকা গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার। ভাদ্রপদের শুভ পূর্ণিমা তিথি থেকেই সূচনা হবে এই মহৎ ক্ষণের। এর পর একে একে প্রতিপদের সূচনায় প্রয়াত পূর্বপুরুষদের মৃত্যুতিথি অনুসারে চলবে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ অনুষ্ঠান। নদী বা পবিত্র জলাশয়ে স্নান সেরে তিল-জলদানের মাধ্যমে চলে এই পরম কর্তব্য পালন। সঙ্গে চলে অন্ন ও বস্ত্র দানের মহৎ কর্ম।

এই পক্ষকালের চরম সার্থকতা দেখা যায় অন্তিম দিনে। আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হবে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া। এটিই পিতৃপক্ষের অন্তিম লগ্ন। যাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রয়াণের নির্দিষ্ট তিথি বা সময় জানা নেই, শাস্ত্রমতে তাঁরা এই সর্বপিতৃ অমাবস্যাতেই তর্পণ ও শ্রাদ্ধকর্ম সম্পাদন করতে পারেন। এতেও সমপরিমাণ পুণ্য মেলে।

ছবি: সংগৃহীত

পৌরাণিক মাহাত্ম্য কী?
পিতৃপক্ষের পৌরাণিক গাম্ভীর্য লুকিয়ে রয়েছে মহাভারতের এক হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যানে। মহাবীর কর্ণ মৃত্যুর পর স্বর্গে গমন করেন। সেখানে তাঁকে খাদ্যের বদলে প্রচুর সোনা ও রত্ন উপহার দেওয়া হয়। বিস্ময়ে কর্ণ দেবরাজ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ইন্দ্র জানান, জীবনভর কর্ণ কেবল সোনা ও ঐশ্বর্যই দান করে গিয়েছেন। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে কখনও অন্ন ও জল তর্পণ করেননি।

কর্ণ বিনীতভাবে জানান, তিনি নিজের জন্মপরিচয় জানতেন না। তাই বাধ্য হয়েই তিনি পিতৃপুরুষের তর্পণ করতে পারেননি। কর্ণের এই আকুলতা অনুধাবন করে দেবরাজ তাঁকে ১৫ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। সেই ১৫ দিন ধরে কর্ণ ভক্তিভরে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন, বস্ত্র ও তিল-জল দান করেন। মর্ত্যলোকে কর্ণের সেই ১৫ দিনের পুণ্য তর্পণই শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ নামে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *