কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে ফের সরব হল সিপিএম। কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে চিঠি দিয়ে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশনের একাধিক অসঙ্গতি তুলে ধরে পুনর্বিবেচনার দাবি জানাল কলকাতা জেলা সিপিএম। ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই চিঠিতে দলের জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার অভিযোগ করেছেন, জনসংখ্যার পরিবর্তে ভোটার তালিকাকে প্রধান ভিত্তি করে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হলে প্রকৃত জনবিন্যাস প্রতিফলিত হবে না।
চিঠিতে সিপিএমের দাবি, প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যা বা ভোটারের সংখ্যায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ৫৭, ৩৯, ৩৭ এবং ৩৬ নম্বর প্রস্তাবিত ওয়ার্ডে যথাক্রমে প্রায় ৫,৬৫৫, ৬,১১৯, ৭,০৭৬ এবং ৭,৪৯০ জন ভোটারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১২১, ৪৫ এবং ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ২৩,০৫৯, ২৪,০৪৮ এবং ২৮,৬৯৫। এত বড় ব্যবধানের পিছনে কোনও স্পষ্ট মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, চিঠিতে প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সিপিএমের বক্তব্য, আগের নির্বাচনে যে সব এলাকায় বিজেপি তুলনামূলক বেশি ভোট পেয়েছিল, তার কয়েকটি ক্ষেত্রে কম ভোটারের ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। বিপরীতে, যেখানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলির ভোটের হার তুলনামূলক কম ছিল, সেই এলাকাগুলিকে বেশি ভোটারের ওয়ার্ডে যুক্ত করার অভিযোগ করেছে তারা। দাবি, এই বিষয়টির নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত পরীক্ষা প্রয়োজন। সিপিএমের বক্তব্য, কলকাতা পুরসভা আইন অনুযায়ী ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রশাসনিক সুবিধা-সহ প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। আগের নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের ভোটের হার বা শক্তি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের ভিত্তি হতে পারে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
