উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার দীর্ঘ দুই বছর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-র এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখেন হাসিনার পুত্র তথা প্রাক্তন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ( Sajeeb Wazed Pleasure)। তিনি সরাসরি ভারতকে সতর্ক করে বলেন যে, বাংলাদেশ কার্যত “one other Pakistan” বা অন্য একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিগত সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে পুনরুজ্জীবিত হওয়া কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক—বিশেষ করে সরাসরি সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং উচ্চপর্যায়ের সফরগুলির দিকে ইঙ্গিত করেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
জয় আরও দাবি করেন যে, মুহাম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) এর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের আমলে দেশটির অর্থনীতি চরম পতনের মুখোমুখি হয়েছে এবং দেশটিকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে রাজনৈতিক হত্যাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। এছাড়া, গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময়কার মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করার আর্জি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন বাংলাদেশি কূটনীতিবিদ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশ অতীতে ঘটে যাওয়া একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপ এবং অস্ত্র চোরাচালানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কুখ্যাত Ten Truck Arms Haul-এর মতো ঘটনাগুলোর স্মৃতি উসকে তিনি বলেন, অতীতে কীভাবে আলফা (ULFA) ও অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আজ অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। উল্লেখ্য, ওই অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর হাইকোর্ট থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর থেকেই এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
নিজের দেশে ফেরার তীব্র ইচ্ছাপ্রকাশ করে শেখ হাসিনা এদিন বলেন, শত প্রতিকূলতা ও আইনি জটিলতা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ফিরে যাবেন। তাঁর কথায়, ক্ষমতা দখল নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও শান্তি ফিরিয়ে আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, বর্তমান BNP সরকারের জমানায় দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, মূল্যবৃদ্ধি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর লাগাতার নির্যাতন ও দমনপীড়নের তীব্র সমালোচনা করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের আন্দোলনটি কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত আক্রমণ। সবমিলিয়ে, নির্বাসন থেকে হাসিনার এই প্রথম সরব হওয়া এবং তাঁর পরিবারের চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বড় রকমের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

