হঠাৎ করেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে ডিএমএস, ডিএইচএমএস-সহ ডিপ্লোমাধারী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদানের অধিকার। আর তাতেই তৈরি হয়েছে একাধিক জটিলতা। বাড়িতে কারও মৃত্যু হলে ডেথ সার্টিফিকেট পেতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। এমনকী দেহ সৎকার করতে গিয়ে ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে ফিরতে হয়েছে মৃতের পরিবারকে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ, দ্বিতীয় সিডিউলডে অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও ডিএমএস, ডিএইচএমএস-সহ ডিপ্লোমাধারী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যার প্রতিবাদে স্বাস্থ্যভবনে সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিকর্তা তথা স্টেট ডেথ-বার্থ রেজিস্ট্রার এবং স্বাস্থ্য সচিবকে ডেপুটেশন দেয় মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার। সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. সজল বিশ্বাস জানিয়েছেন, বুধবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন ডিপ্লোমাধারী হোমিওপ্যাথি ডাক্তাররা।
সংগঠনের অভিযোগ, ৯ জুলাই একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ডিএমএস, ডিএইচএমএস-সহ বিভিন্ন হোমিওপ্যাথি ডিপ্লোমাধারী এবং অন্যান্য আয়ুশ ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। সংগঠনের পক্ষে যুগ্ম সম্পাদক ডা. ঝোটন দাস জানান, ১৯৯৫ সালে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ডিএমএস, ডিএইচএমএস-সহ ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের সেকেন্ড সিডিউলডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁরা জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। সাম্প্রতিক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সেই অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক।
আরও পড়ুন:
এই ব্যাপারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন হোমাই-এর সাধারণ সম্পাদক ডা. শ্যামল মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যে প্রায় ডিএমএস, ডিএইচএমএস করা ৩৪ হাজার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রয়েছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তির জেরে সবাই অপমানিত বোধ করছেন। অনেকে ডিপ্লোমাধারী হোল্ডারদের ভুয়ো ডাক্তার ভাবছেন। অবিলম্বে এই অর্ডার সংশোধন করা উচিত। সংগঠনের দাবি, চাপে পড়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অর্জিত অধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
