প্রকাশ্যে দলিতকে খুনের চেষ্টার স্বীকারোক্তি! ১০ দিনেই জামিন পেয়ে গেল ‘হিন্দু বীর’ স্বতন্ত্র

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


“একটা লোককে মেরে মাথা গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম। তারপরও হিন্দুত্বের জোরে আমাকে একটা রাতও জেলে থাকতে হয়নি। বজরংবলি আর বিজেপি নেতাদের আশীর্বাদে রাতেই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছিল আমাকে।” প্রকাশ্যে দাম্ভিকতার সঙ্গে কথাগুলো বলেছিলেন স্বতন্ত্র ভারদ্বাজ। ইউটিউব চ্যানেলে তাঁর সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হতেই আলোড়ন পড়ে যায় গোটা দেশে। তবে ওই হিন্দুত্ববাদী ‘বীর’কে জেলে আটকে রাখতে পারল না দিল্লি পুলিশ। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে গেলেন তিনি।

মঙ্গলবার দিল্লির একটি আদালত স্বতন্ত্রকে ৩ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৫(২) এবং ১২৬(২) ধারায় মামলা করেছিল পুলিশ। যা মূলত মারধরের ধারা। পরে প্রকাশ্যে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি-উপজাতি আইন এবং পকসো ধারাতেও মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ১০ দিনেও দিল্লি পুলিশ সেভাবে তদন্তে অগ্রগতি করতে না পারায় স্বতন্ত্র জামিন পেয়ে গেলেন।

আরও পড়ুন:

গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে স্বতন্ত্র ভারদ্বাজ নামের ওই হিন্দুত্ববাদী যুবক এক দলিত ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁর মাথা গুঁড়িয়ে দেন। প্রকাশ্যে এক সাক্ষাৎকারে ওই যুবক দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের মদতে, পুলিশের থেকে লাঠি নিয়েই দলিত বিক্ষোভকারীর মাথা গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এত নৃশংসতার পরও তাঁকে জেলে থাকতে হয়নি বিজেপি নেতাদের আশীর্বাদে। স্বতন্ত্র এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি লোকটার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলাম। ৬০টা সেলাই পড়েছে। জানেন কোন ধারায় মামলা হওয়ার কথা, ৩০৭ অর্থাৎ খুনের চেষ্টা। লোকটার মেয়ে থানার সামনে ধরনা দিয়েছিল। বলেছিল আমার বাবা সুবিচার না পেলে বিষ খেয়ে মরব। কিন্তু তারপরও আমার কিচ্ছু হয়নি। পরদিন সকালেই এই স্বতন্ত্র হাজত থেকে বেরিয়ে পড়ল। আমাকে জেলে যেতেও হয়নি। আমি রাতেই ঘুরে বেড়িয়েছি। আসলে কপিল মিশ্র (বিজেপি বিধায়ক) একটা ফোন করেছিল, তাতেই আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। কপিল মিশ্র আমার বড় ভাই, চিরাগ পাসওয়ান আমার বড় ভাইয়ের মতো, নরেন্দ্র মোদির কথা বলছেন, সেও আমার বড় ভাই।”

ওই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নামে বিরোধীরা। বিক্ষোভ দেখায় ককরোচ জনতা পার্টি। আসরে নামান দলিত সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ। রাহুল গান্ধী তাঁর গ্রেপ্তারির দাবি জানান। চাপে পড়ে ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ১০ দিনের মধ্যেই তিনি জামিন পেয়ে গেলেন।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *