সোমবার সিবিএসই কর্তৃপক্ষকে ১২ ক্লাসের পরীক্ষার ফলপ্রকাশে বিলম্বের জন্য কার্যত তিরস্কার করে সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি শুক্রবারের মধ্যে পড়ুয়াদের পুনর্মূল্যায়নের ফল ঘোষণার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কী ভাবনাচিন্তা রয়েছে, তা জানাতেও সিবিএসই-কে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এহেন নির্দেশের পরও দুর্ভোগ কাটেনি পড়ুয়াদের। তারা এখনও ফল প্রকাশের দিন জানার অপেক্ষায় রয়েছে। একদিকে কলেজে কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে বহাল পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা। হাজার হাজার পড়ুয়ার দিন কাটছে উদ্বেগে। আসনের পাশাপাশি ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি নম্বর মিলবে তো! তারা বারবার বোর্ডের ওয়েবসাইট রিফ্রেশ করছে, বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপ ঘাঁটছে। রেড্ডিট থ্রেড স্কুল করছে। কিন্তু তাদের যাবতীয় চেষ্টা বিফলে গিয়েছে। সিবিএসই যথারীতি মৌন।
সৌদি আরবের এক প্রবাসী পড়ুয়া ফল জানতে না পেরে তৎপর হতেই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট বোর্ডকে বলেছিল, প্রয়োজনে রাত জেগে কাজ করে শুক্রবারের মধ্যে কিছু একটা প্ল্যান জানাতে হবে যাতে পিটিশনার প্রবাসী পড়ুয়া ও তার মতো একই সমস্যায় পড়া ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। পড়ুয়ারা আশায় ছিল, এবার তা হলে ১২ জুনের মধ্যে আর কিছু না হোক, অন্তত একটা সময়সীমা বা কোনও ঘোষণা শোনা যাবে। কিন্তু শুক্রবার চলে গেলেও কোনও বার্তা আসেনি। টেকনিক্যাল দিক থেকে বলা যায়, শীর্ষ আদালতের শুনানির কেন্দ্রে ছিল উপসাগরীয় দুনিয়ার পড়ুয়ারা এবং ভালো পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের বিষয়টি। কিন্তু কোর্ট আরও গভীরে ঢুকেছে। ফল বেরতে দেরির অর্থ, ভর্তি পিছিয়ে বা বানচাল হয়ে যাওয়া- এটা গুরুত্ব পেয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে। দেশজুড়ে পুনর্মূল্যায়নের ফল জানার আশায় বসে থাকা পড়ুয়াদের এখন উদ্বেগ এটাই।
আরও পড়ুন:
৭ জুন পরীক্ষার ফল রিভ্যালুয়েশন ও ভেরিফিকেশন উইন্ডো বন্ধ হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের পোর্টালের মাধ্যমে ১ লাখ ৬০ হাজারের ওপর পড়ুয়া আবেদন করেছে বলে সিবিএসই সূত্রে জানা গিয়েছে।
৭ জুন পরীক্ষার ফল রিভ্যালুয়েশন ও ভেরিফিকেশন উইন্ডো বন্ধ হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের পোর্টালের মাধ্যমে ১ লাখ ৬০ হাজারের ওপর পড়ুয়া আবেদন করেছে বলে সিবিএসই সূত্রে জানা গিয়েছে। আবেদনকারী পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট, নতুন মূল্যায়ন সিস্টেম ঘিরে কতটা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আছে। অনেক পড়ুয়ার কাছে আর কয়েকটা বেশি নম্বরের মূল্য অনেক। তারা একাধিক কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার ন্যূনতম ৭৫ শতাংশের যোগ্যতামান পেরবে, স্কলারশিপের মাপকাঠি অর্জন করবে বা নির্দিষ্ট কিছু কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করবে।
পড়ুয়াদের উদ্বেগের বড় কারণ, বোর্ডের পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দেরিতে চলছে বলে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই ভর্তির নির্ঘণ্ট স্থগিত রাখবে না। কিছু প্রতিষ্ঠান অবশ্য পড়ুয়াদের আপডেটেড বারো ক্লাসের মার্কশিট পরে জমা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। অন্যরা কাউন্সেলিং ও সিট বরাদ্দ করার প্রক্রিয়া চলতি সময়সূচি মেনে চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাতেও পড়ুয়ারা উদ্বেগে রয়েছে। আসন পেলে কি নিয়ে নেবে? সংশোধিত নম্বরের জন্য অপেক্ষা করবে? ভর্তির ফি জমা দিয়ে আপডেট হওয়া মার্কশিট সময়মতো হাতে পাওয়ার আশায় বসে থাকবে? এমন হাজারো প্রশ্ন ভিড় করছে তাদের মনে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
