নেই অসুর-সিংহ, দ্বিভূজা দেবীর মুখদর্শন না করেই আরাধনা! মন্তেশ্বরের দত্ত বাড়ির অভিনব পূজা রীতি

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


কৈলাস থেকে আগমনে আর বেশি দেরি নেই উমার। বোধনের অপেক্ষায় আপামর বাঙালি। তবে আদর অভ্যর্থনা এক এক পরিবারে এক একরকম। ঠিক যেমন মন্তেশ্বরের দত্ত পরিবার। এই বাড়িতে দেবী সব রীতি মেনে পূজিতা হন ঠিকই, তবে, দেবীর মুখ দর্শন করেন না পরিবারের কেউ। এটাই রীতি। শুধু তাই নয়, এই বাড়িতে দেবী দশভূজা নন, রয়েছে ২টি হাত। নেই, অসুর ও সিংহ।

মন্তেশ্বরের মামুদপুর ২ পঞ্চায়েতের মাসডাঙার শতাব্দী প্রাচীন দুই হাতের এই দেবীকে ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনী। মন্তেশ্বরের মামুদপুর পঞ্চায়েতের মাসডাঙার দত্ত পরিবারের প্রতিষ্ঠিত দেবী দুর্গা এখানে দেবী অভয়া রূপেই পুজো পান। এই দেবীর বৈশিষ্ট্য অন্যদের থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। দেবী অভয়ার দুটি হাত রয়েছে। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী-সরস্বতীর সঙ্গে এখানে রয়েছেন জয়া ও বিজয়া। অসুর-সিংহ নেই। এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন কলকাতার ব্যবসায়ী ও মাসডাঙার বাসিন্দা হরিপদ দত্ত।

আরও পড়ুন:

কথিত আছে, আনুমানিক ৩০০ বছর আগে দত্ত পরিবারের এক কর্তা দেবী অভয়ার স্বপ্নাদেশ পান যে, পার্শ্ববর্তী খড়ি নদীতে ভেসে আসছে কাঠের পাটাতন। সেই পাটা তুলে শাস্ত্রমতে প্রতিষ্ঠা করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বহু বছর আগে দেবীকে দর্শন করায় পরিবারের এক সদস্য দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এরপর থেকেই দেবী প্রতিমা দর্শন করতে পারেন না দত্ত পরিবারের সদস্যরা।

এখানে প্রতিপদ থেকে দেবীর আরাধনা শুরু হয়। দেবী প্রতিমার চক্ষুদান করার পর থেকে বিসর্জন পর্যন্ত পরিবারের কোনও সদস্যই প্রতিমাই দর্শন করতে পারেন না। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা আসতে না পারায় পুজো করেন সেবাইতরা। সেবাইত কুন্তল চক্রবর্তী বলেন, ” বর্তমানে এখন আমরাই পুজো করে চলেছি। পুজোর চারদিন হাজার-হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।” কিন্তু পরিবারের কোনও সদস্য থাকেন না। আর এভাবেই বছরের পর বছর উমার পুজো হয়ে চলেছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *