তিরুপতি মন্দিরের প্রসাদী লাড্ডুতে ভেজাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল আগেই। এবার সেই মামলায় ইডি গ্রেপ্তার করল ‘সুকৃতি ফুডস’-এর প্রোমোটার কৈলাস চাঁদ মাংলাকে।
তদন্তকারীদের দাবি, তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমকে ‘আগমার্ক স্পেশাল গ্রেড কাউ ঘি’ হিসেবে যে ঘি সরবরাহ করা হয়েছিল তা একেবারেই ভেজাল। এতে মূলত রিফাইন্ড পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল, পামোলিন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার অভিযোগ, টিটিডির কাছে ভেজাল সামগ্রী জোগাড় করতে এবং পণ্যগুলির প্রকৃত রূপ গোপন করতে সহায়তা করেছিলেন কৈলাস।
জানা গিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমকে সরবরাহ করা প্রায় ৬৮ লক্ষ কেজি ঘি ছিল সম্পূর্ণ নকল বা সিন্থেটিক। ল্যাবরেটরি ও ফরেনসিক রিপোর্টে নাকি দেখা গিয়েছে, দুগ্ধজাত মাখন বা দুধের চর্বি ছাড়াই এই ঘি তৈরি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এতে বিপুল পরিমাণে রিফাইন্ড পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল এবং পামোলিন ব্যবহার করেছিল ওই সংস্থা। এখানেই শেষ নয়, খাঁটি ঘিয়ের সুগন্ধ আনতে পাম অয়েলের মিশ্রণে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল এস্টার, বিটা-ক্যারোটিন এবং কৃত্রিম ঘি ফ্লেভার মেশানো হয়েছিল।
প্রথমে অভিযোগ উঠেছিল লাড্ডুতে পশুর চর্বি এবং মাছের তেল ব্যবহার হয়েছে। পূর্ববর্তী জগনমোহন রেড্ডির সরকার থাকাকালীন এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তোলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন সনাতনীরা। ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করা হয়। পরে অবশ্য সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল নিশ্চিত করে, প্রসাদে কোনও চর্বি ছিল না। তবে এতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ভেজাল পাম অয়েল ব্যবহার করা হয়েছে। অবশেষে সেই তেল সরবরাহকারী সংস্থার প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করল ইডি।
উল্লেখ্য, পাম অয়েলে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। ফলে বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি। সমস্যা তৈরি হয় রক্তনালীতে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
