তামিলের লড়াই

তামিলের লড়াই

শিক্ষা
Spread the love


Uploaded By: Uttarbanga Sambad

বাংলায় যখন ভোট যুদ্ধের চেহারা নিয়েছে, তামিলনাডুতে তখন কার্যত নিঃশব্দে নির্বাচন চুকে গিয়েছে। বাঙালিয়ানা নিয়ে এই ভোটে বঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন কম হয় না। অস্মিতা শব্দটি বাংলায় ধার করে বিষয়টিকে স্পর্শকাতর করে তোলার মরিয়া চেষ্টা ছিল। তামিলনাডুতেও তামিল অস্মিতা সেই রাজ্যের শাসকের প্রধান অস্ত্র। দাক্ষিণাত্যে এই আবেগ নতুন কিছু নয়। ভাষার প্রশ্নে হোক কিংবা রাজ্য অথবা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অস্মিতা দক্ষিণের আঞ্চলিক দলগুলি সবসময় চাগিয়ে রাখে।

বছরের পর বছর ধরে তামিলনাডুর ভোট মূলত এআইডিএমকে ও ডিএমকে’র মধ্যে। কিন্তু জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইডিএমকে কার্যত কোণঠাসা। একদিকে ওই দলটির হাত ধরে বিজেপি তামিলনাডুতে পা রাখার মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপিকে সঙ্গে রেখে রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে এআইডিএমকে। বিজেপিকে আর্যাবর্তের প্রতিনিধি দাগিয়ে দিয়ে এই নির্বাচনকে দ্রাবিড় ও আর্যদের লড়াই বলে চিহ্নিত করছে ডিএমকে।

ফলশ্রুতিতে এআইডিএমকে-বিজেপি জোটের হিন্দুত্ব ও উন্নয়নের স্লোগানের মোকাবিলায় ডিএমকে হাতিয়ার করছে দ্রাবিড় অস্মিতাকে। যা সাধারণত ভারতের সব আঞ্চলিক দলই করে থাকে। এজন্য একধরনের আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে থাকে ওই দলগুলি। তামিলনাডুতে ডিএমকে সেটাই করছে। যে লক্ষ্যে তঁার উন্নয়নের মডেলকেও দ্রাবিড়ীয় বলে দাবি করছেন ডিএমকে’র শীর্ষ নেতা এমকে স্ট্যালিন।

হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে ১৯৬৪-’৬৫ সালে তামিলনাডুতে বেশ কয়েকজন তরুণের আত্মহত্যাকে নতুন করে সামনে এনেছে ডিএমকে। ওই সময় পুলিশের গুলিতেও অনেকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত তখন পিছু হটে কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার হিন্দির সঙ্গে ইংরেজি চালু রাখা ও রাজ্যের সরকারি কাজে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই ঘটনার স্মরণে গত বছর থেকে ডিএমকে তামিলনাডুতে তামিল ভাষা শহিদ দিবস উদযাপন শুরু করেছে সেই তামিল অস্মিতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই।

চলতি বছরের শুরু থেকে একদম হিসাব করে স্ট্যালিন তামিল আবেগ ব্যবহারের ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়েছিলেন। তামিল পরিচয় আঁকড়ে রাখার ডাক দিয়েছিলেন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী। জানুয়ারিতে তামিল ভাষা দিবস উদযাপনের দিনই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, এবারের নির্বাচন আর্যদের বিরুদ্ধে। তামিল ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে আর্যদের বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, আর্যরা তামিল সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। ঘুরিয়ে এআইডিএমকে-কে আর্যদের সহযোগী বলে প্রচার শুরু করেছিলেন স্ট্যালিন।

নির্বাচনের বহু আগে থেকে হিসাব করে তাঁর এই পদক্ষেপ যথেষ্ট কার্যকর হয়েছিল সন্দেহ নেই। যদিও আর্য বনাম দ্রাবিড় সংঘাতকে ধর্মযুদ্ধের চেহারা দিয়েও তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিন্ত ছিলেন না। একের পর এক জনকল্যাণ প্রকল্পকে ব্যবহার করেছিলেন ভোটে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। যেমন প্রকল্প চালু থাকলেও নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগে তিনি রাজ্যের মহিলােদর প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

স্ট্যালিনের আশঙ্কা ছিল, ভোট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন এই প্রকল্পে বাধা দিতে পারে। তাই আগাম মার্চ থেকে মে-র ভাতা বাবদ ৩ হাজার ছাড়াও নববর্ষের বোনাস হিসেবে ২ হাজার টাকা দিয়ে রেখেছিলেন। একদিকে তামিল অস্মিতা ও অন্যদিকে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে নগদ দান ইত্যাদিতে স্ট্যালিনের দল এগিয়ে থাকার কথা। কিন্তু ডিএমকে ততটা নিশ্চিত নয়।

কেননা, বিজেপি-এআইডিএমকে জোট তেমন শক্তিশালী না হলেও কাঁটা হয়ে উঠতে পারে তামিল অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাঘাম (টিভিকে)। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সমীক্ষায় এই দলটি ১০ শতাংশ ভোট পেতে পারে আভাস মিলছে। তা যদি হয়, তবে স্ট্যালিনের সমীকরণ কিছুটা ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে। মনে রাখা দরকার টিভিকে-র হাতিয়ারও সেই তামিল অস্মিতা। ফলে আঞ্চলিকতাকে আঁকড়ে ধরেও কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ডিএমকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *