উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোটারদের রায় এখন যন্ত্রবন্দি। আগামী ৪ মে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে সেই রায় গণনার কাজ। দুই দফায় (২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল) সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে বন্দি জনমত শেষ পর্যন্ত কাকে নবান্নের ক্ষমতায় বসাবে, তার চূড়ান্ত ইঙ্গিত মিলবে সোমবার বিকেলের মধ্যেই (West Bengal Election 2026 End result Counting)।
গণনা প্রক্রিয়া ও সময়সূচী
সোমবার সকালে গণনার শুরুতেই প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং পরবর্তীতে ইভিএমের ভোট গণনা করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, একটি গণনা কেন্দ্রে সাধারণত ১৪টি টেবিল থাকে এবং প্রতিটি টেবিলে ভোট গণনা শেষ হলে তাকে এক রাউন্ড ধরা হয়। গণনা শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ দুপুর ১২টার মধ্যেই ফলাফলের একটি প্রাথমিক ও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যে সমস্ত কেন্দ্রে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেখানে চূড়ান্ত ফল জানতে গভীর রাতও হয়ে যেতে পারে।
স্ট্রংরুমের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
বর্তমানে সমস্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিনগুলি স্ট্রংরুমে কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে।
- পাহারা: স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানিরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি স্ট্রংরুমের পাহারায় ন্যূনতম ২৪ জন জওয়ান নিযুক্ত রয়েছেন।
- নজরদারি: ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্ট্রংরুমে প্রবেশের জন্য ‘ডবল লক সিস্টেম’ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রবেশ-প্রস্থান লগবুকে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
- প্রতিনিধিদের উপস্থিতি: কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের বাইরের এলাকায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নজরদারি চালাতে পারবেন।
গণনাকেন্দ্রের নিয়মাবলী ও সুরক্ষা
গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে কোনো যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ।
- প্রবেশাধিকার: শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ, প্রার্থী বা তাঁদের অনুমোদিত এজেন্ট এবং কমিশনের পরিচয়পত্র থাকা ব্যক্তিরাই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
- প্রযুক্তিগত যাচাই: এবার পরিচয়পত্রের সাথে কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্যান করার পরেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে।
- কড়াকড়ি: গণনাকক্ষে মোবাইল ফোন বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুরো গণনা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ফলাফল নির্ধারণের পদ্ধতি
ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে ‘রেজাল্ট’ বোতাম টিপে প্রতিটি বুথের প্রাপ্ত ভোট গণনা করা হয়। গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মূলত দুটি ফর্ম ব্যবহার করা হয়: ১. ফর্ম ১৭সি: যেখানে বুথভিত্তিক ভোটের হিসাব ও নোটায় পড়া ভোটের তথ্য থাকে। ২. ফর্ম ২০: এটি হলো চূড়ান্ত ফলাফলের ‘শিট’, যেখানে পুরো কেন্দ্রের প্রতিটি প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোট নথিভুক্ত করা হয়। গণনা শেষে নির্দিষ্ট বুথের ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ গুনে কন্ট্রোল ইউনিটের তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।
এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষা
ভোট গণনার আগেই বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ‘চাণক্য টুডে’-র সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৯২টি আসন এবং তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে ১০০টি আসন। তবে ইতিহাসের পাতায় অনেক সময়ই এই সমীক্ষা মেলেনি, তাই চূড়ান্ত রায়ের জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
