কলেজ থেকে ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে বিছানায় গা এলিয়ে টিভি চালু করল রাহুল। প্রিয় সিরিজের একটা পর্ব শেষ হতেই পরেরটা শুরু। তারপর খেলা, সিনেমা—‘আর পাঁচ মিনিট’ করতে করতে কখন যে রাত কাবার, খেয়ালই থাকে না। ছুটির দিনেও একই ছবি। বাইরে বেরোনোর বদলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভির পর্দায় চোখ। বিনোদনের এই অভ্যাসটাই কি অজান্তে প্রভাব ফেলছে মস্তিষ্কে?
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা সেই প্রশ্নই তুলেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাঝবয়সে দীর্ঘ সময় টেলিভিশন দেখার অভ্যাসের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্কের কিছু অংশের আয়তন কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে স্মৃতি, চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশে এমন পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।
গবেষণাটি আমেরিকার ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস রিস্ক ইন কমিউনিটিজ’ (এআরআইসি)-এর তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ১,৭১২ জনের ওপর সমীক্ষাটি চালানো হয়। গবেষণার শুরুতে তাঁদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৫৩ বছর। সেই সময়ে তাঁদের টেলিভিশন দেখার অভ্যাস এবং কতটা সময় তাঁরা বসে কাটান, তার তথ্য নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে মস্তিষ্কের এমআরআই করে বিভিন্ন পরিবর্তন খতিয়ে দেখা হয়।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, বেশি সময় টিভি দেখার সঙ্গে মস্তিষ্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের (গ্রে ম্যাটার) আয়তন কমে যাওয়ার স্পষ্ট যোগ রয়েছে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের সাদা অংশেও (হোয়াইট ম্যাটার) কিছু পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, যা মস্তিষ্কের সার্বিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে এর অর্থ টিভি দেখলেই ডিমেনশিয়া হবে, এমন নয়। গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক। তাই টিভি দেখাই যে সরাসরি মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনের একমাত্র কারণ, তা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তাই প্রিয় সিরিজ বা সিনেমা দেখা পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই। তবে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভির সামনে বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা, শরীরচর্চা করা কিংবা অন্য কোনও সক্রিয় কাজে সময় দেওয়া ভালো। বিনোদনের পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও শরীর – দু’টিরই যত্ন নেওয়া জরুরি।

