উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যের সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা টেট (TET) আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্যে স্কুলশিক্ষা দপ্তর বিকাশ ভবনের তরফ থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WB Central SSC) এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে In-Service Lecturers TET Examination কবে নাগাদ নেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে স্পষ্ট মতামত ও সম্ভাব্য সময়সূচি জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিকাশ ভবনের এই পদক্ষেপে রাজ্যের শিক্ষকমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করা প্রবীণ শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের চাকরি ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মত অভিজ্ঞমহলের।
In-Service Lecturers TET Examination: সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সময়সীমা
শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act, 2009) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের (NCTE) নিয়মাবলি অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য টেট উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। ২০১১ সালের আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের এই নিয়মের বাইরে রাখার দাবিতে শীর্ষ আদালতে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। তবে, সর্বোচ্চ আদালত টেট পাশের বাধ্যবাধকতা বহাল রেখে জানিয়ে দেয়, কর্মরত শিক্ষকদেরও এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
আদালতের নির্দেশে কেবল সেই শিক্ষকদের এই বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে, যাঁদের চাকরির মেয়াদ অবসরের জন্য পাঁচ বছর বা তার কম বাকি রয়েছে। বাকি সমস্ত ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য যোগ্যতা অর্জনের শেষ সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ৩১ অগাস্ট, ২০২৮।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নতুন জটিলতা
বিকাশ ভবনের চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের নির্ধারিত ন্যূনতম অ্যাকাডেমিক মাপকাঠি।
শিক্ষকমহলের মূল সমস্যাগুলি হল:
প্রশিক্ষণের অভাব: দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর আগে নিযুক্ত বহু প্রবীণ শিক্ষকের বর্তমান নিয়মানুযায়ী ডিএলএড (D.El.Ed) বা বিএড (B.Ed) ডিগ্রি নেই।
পরীক্ষায় বসার জটিলতা: প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণমূলক ডিগ্রি ছাড়া কীভাবে তাঁরা এই টেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, তা স্পষ্ট নয়।
চাকরি হারানোর আশঙ্কা: বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় না বসলে বা পাস করতে ব্যর্থ হলে, সরাসরি চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
পর্ষদ ও কমিশনের পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ২০২৮ সালের অগস্ট মাসের ডেডলাইনকে সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশন দ্রুত পরীক্ষার পরিকাঠামো মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের এক আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন যে বিকাশ ভবনের চিঠির প্রেক্ষিতে আদালতের যাবতীয় পর্যবেক্ষণ খতিয়ে দেখে অতি দ্রুত সম্ভাব্য পরীক্ষার দিনক্ষণ স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে পেশ করা হবে।
আইনি সুরক্ষার অভাব ও দেশজুড়ে প্রভাব
সংসদের বাদল অধিবেশনে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি বাঁচাতে কোনো কেন্দ্রীয় আইনি রক্ষাকবচ বা সংশোধনী বিল না আসায় শিক্ষক সংগঠনগুলি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পূর্বে কেন্দ্রীয় স্তরে সুরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শীর্ষ আদালতের এই আদেশের ফলে সারা দেশে প্রায় ২০ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার কর্মরত শিক্ষকের পেশাগত জীবন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছে।

