কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে রাজ্যের রাস্তাঘাট ও সরণির নামবদলে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন নবান্নের – Uttarbanga Sambad

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ সরণির নামকরণের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে গঠিত ওয়েস্ট বেঙ্গল রোড রিনেমিং কমিটি (West Bengal Street Renaming Committee) এই দায়িত্ব সামলাবে। ১০ সদস্যের এই বিশেষ উপদেষ্টা কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, যিনি সাধারণ মহলে কার্তিক মহারাজ নামেই সমধিক পরিচিত।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত দিক মাথায় রেখে যেকোনও নতুন নাম প্রস্তাব বা নামবদল সংক্রান্ত বিষয়ে নবান্নকে যুক্তিযুক্ত সুপারিশ দেওয়াই হবে এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য।

West Bengal Street Renaming Committee: সদস্য ও কার্যপদ্ধতি

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথাগত রায়, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং কলকাতা পুরসভার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিটির কার্যপরিধি যেমন রাখা হয়েছে:

প্রস্তাব যাচাই: রাজ্যের যেকোনও রাস্তা, সরণি, অ্যাভিনিউ, উড়ালপুল বা সেতু এবং সাধারণের ব্যবহার্য চত্বরের নতুন নামকরণ বা বর্তমান নাম পরিবর্তনের আবেদন খতিয়ে দেখা।
ঐতিহাসিক ভিত্তি: প্রস্তাবিত নামগুলির ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যগত গুরুত্ব মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পুরনো নথিপত্র বিশ্লেষণ করা।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: নামকরণের যৌক্তিকতা প্রমাণের স্বার্থে কমিটি প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ, সমাজতত্ত্ববিদ ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করতে পারবে।
চূড়ান্ত সুপারিশ: যাবতীয় তথ্য ও প্রামাণ্য নথি মূল্যায়নের পর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সুপারিশ জমা দেবে এই কমিটি।

বিতর্ক এড়াতে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামবদল ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে চর্চা তৈরি হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত পথের একাংশ আগে ‘সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ’ নামে পরিচিত ছিল, যার নতুন নাম দেওয়া হয় ‘গোপাল মুখার্জি রোড’।

একইভাবে বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার পাঁচমাথার মোড় থেকে ঝনঝনিয়া সেতু পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার অংশের নামফলক বদল ঘিরেও নানা মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। অতীতে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এড়াতেই সরকার এবার প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে স্বচ্ছ রূপরেখা তৈরি করে পদক্ষেপ করতে চাইছে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, বিভিন্ন জেলা থেকেই রাস্তাঘাটের নাম পরিবর্তনের দাবি বা অনুরোধ নিয়মিত জমা পড়ে। কোনও নাম অনুমোদনের আগে তার যথার্থতা, স্থানীয় মানুষের আবেগ এবং আঞ্চলিক ইতিহাসের সঙ্গে সংগতি রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে যাচাই করে দেখাই এই বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল লক্ষ্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *