ক্ষীণ আশার আলো

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


তরুণ প্রজন্ম শব্দবন্ধের পরিসরে যেন নির্দিষ্ট অর্থটি আর বোঝানো যাচ্ছে না। সেজন্য আশ্রয় নিতে হচ্ছে ইংরেজি শব্দবন্ধ ‘জেন জেড’-এর। তারুণ্যের শক্তি বোঝাতে ভারতে এখন জেন জেড চর্চা। কখনো-কখনো আরও একধাপ এগিয়ে ‘জেন আলফা’ শব্দের পরিসরের ব্যাপ্তি বাড়ানো হচ্ছে। ইংরেজি উচ্চারণে শব্দবন্ধগুলিতে যেন একটি জোর অনুভূত হচ্ছে। অনেকটা হিন্দিতে সুর করে ‘এক ধাক্কা আউর দো’ উচ্চারণে যেমন সমবেত শক্তি অনুভব করা যায়।

আচমকা যুবশক্তির ঢেউ আছড়ে পড়ল বলে মনে করাটা ভুল হবে। একথা অবশ্য সত্যি যে, ঢেউটা অনুভূত হল নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ৫০ দিনের অবস্থানে। যদিও হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির একক কর্মসূচি আর বলার উপায় নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে যে তরুণদের স্রোত যন্তরমন্তরমুখী প্লাবন বইয়ে দিয়েছিল, তার কৃতিত্ব শুধু ককরোচ জনতা পার্টির ছিল না।

বিশেষ করে দুঃসহ বেকারত্বের যন্ত্রণা, শিক্ষাক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য, পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি ইত্যাদিতে পরিস্থিতিটা তৈরি করে রেখেছিল। সেই বিপুল ক্ষোভ নিঃসরণের ঠাঁই পেয়ে যাওয়ায় যন্তরমন্তর হয়ে উঠেছিল ‘তরুণ ঈশান’কে ‘প্রলয় বিষাণ’ বাজানোর আহ্বান। স্থিতাবস্থার বাঁধ ভেঙে দিতে চঞ্চল হয়ে উঠেছিল যৌবনের বান। সেই ধাক্কায় বাঁধ ভেঙে পড়েছে বলা যাবে না। কিন্তু অচলাবস্থার বাঁধে নিঃসন্দেহে ফাটল ধরেছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়া সেই ফাটলের উদাহরণ। সেখানেই শেষ নয়। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারও করতে হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দিল্লিতে ফের মিছিলের হুমকিতে। আন্দোলনটায় কিন্তু কোনও বিপ্লবী ভাবনা ছিল না। নিছকই নিট-এ অনিয়ম, দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে জমাটবাঁধা আন্দোলনটায় সামগ্রিকভাবে তারুণ্যের স্রোত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েিছল। সেই স্রোত নির্দিষ্ট খাতে আরও ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা অবশ্য অনিশ্চিত।

তবে ভোট কারবারের কুশীলবদের ঘুম ছুটে গিয়েছে। শাসক শিবির তো বটেই, বিরোধীরা সবাই এখন জেন জেড-এর সমর্থন আদায়ে সক্রিয়। বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরে সাংগঠনিক কাঠামোর রদবদলে বেশি করে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে যুবশক্তিকে। রাহুল গান্ধি ছাত্র কি পুঞ্জ জাতীয় কর্মসূচি নিয়ে চলেছেন একের পর এক। যে সিপিএম বৃদ্ধতন্ত্রে এতদিন অচল ছিল, সেখানে এখন নবীন মুখের ভিড়। নরেন্দ্র মোদি তরুণদের সঙ্গে সংলাপে সমাজমাধ্যমকে আঁকড়ে ধরেছেন।

তাতে নবযৌবনের জোয়ার পরিণিতি পাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। কেননা, সমাজজীবনে কোনও কিছুর পরিণতি পেতে হলে একটি আদর্শগত অবস্থান আবশ্যক। যবে থেকে ভোটকেন্দ্রিক দলীয় তৎপরতা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিসরকে দখল করে ফেলেছে, তবে থেকে উত্তর মতাদর্শ যুগের সূচনা হয়েছে। তাৎক্ষণিক লাভকে কেন্দ্র করে যেখানে সবকিছু আবর্তিত হয়। এছাড়া থাকে ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের নানাবিধ সমীকরণ। যন্তরমন্তরে সৃষ্ট আন্দোলন তার ব্যতিক্রম হবে কীভাবে!

শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা কিংবা এফআইআর প্রত্যাহারে আন্দোলন স্থগিত হলে সেই প্রশ্ন উসকে উঠবেই। ইতিমধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নানা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে, আপস করতে বাধ্য করে। শেখ হাসিনার মসনদ টলিয়ে দিলেও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি শেষপর্যন্ত সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করেছে।

তারুণ্যের শক্তি নেপালেও কোনও মঙ্গলময় ভবিষ্যতের বার্তা দিচ্ছে না। যে শক্তি বালেন্দ্র শাহকে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসিয়েছিল, সেই শক্তি এখন হতাশ, ক্ষুব্ধ। লক্ষ্য ও গন্তব্য সম্পর্কে সঠিক দিশা না থাকলে চোরাগলিতে আটকে পড়া ইতিহাসের সব আন্দোলনের পরিণতি। জেন জেড শব্দবন্ধটিও যথাযথ প্রত্যাশার দুয়ারে মুখ থুবড়ে পড়বে কি না, তা ভাবীকাল বলবে। এই মুহূর্তে আশার আলো ক্ষীণই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *