কলকাতায় দুর্গাপুজোর সমীকরণে বদল! তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা পরাজিত হতেই এবার কি উৎসবে গৈরিকীকরণ?

কলকাতায় দুর্গাপুজোর সমীকরণে বদল! তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা পরাজিত হতেই এবার কি উৎসবে গৈরিকীকরণ?

রাজ্য/STATE
Spread the love


তৃণমূল আউট। বিজেপি ইন। নীল-সাদা ছায়া সরতেই পুজোয় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। শহরের সিংহভাগ পুজোর পুরনো ফ্লেক্সে চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক ছিলেন তৃণমূলের বিধায়করা। এবার? “সংসদীয় গণতন্ত্রে এটা তো স্বাভাবিক। নতুন বিজেপি বিধায়কদের কাছে যাব।” বলছেন পুজোকর্তারা।

এই বিষয়ে আরও খবর

রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, জোড়াসাঁকো, কাশীপুর বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর-কলকাতার একের পর এক বিধানসভায় ধরাশায়ী তৃণমূল। দেবাশিস কুমার, অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা, অতীন ঘোষরা যুক্ত ছিলেন একাধিক পুজোর সঙ্গে। সে সমস্ত পুজোর কর্তারা জানিয়েছেন, নতুন জয়ী বিজেপি বিধায়কদের প্রস্তাব দেওয়া হবে। দক্ষিণ কলকাতার রানিকুঠি এলাকার নেতাজি জাতীয় সেবাদলের পুজো এবার ৭৬তম বছরে। কৌশিক বণিক এই পুজোর সভাপতি। টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

টালিগঞ্জ বিধানসভায় অরূপ বিশ্বাসকে ছ’হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। নেতাজি জাতীয় সেবাদলের সভাপতি কৌশিক বণিক জানিয়েছেন, “ফ্লেক্সে স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে অরূপ বিশ্বাসের নাম থাকলেও উনি এই পুজোর সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত ছিলেন না। ছিলেন না পুজো কমিটিতেও। তবে নতুন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে আমরা আমন্ত্রণ জানাব ঐতিহ্যশালী এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য।” 

শতাব্দীপ্রাচীন টালা প্রত্যয়েরও। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ফিসফাস। “রাজা আসে যায়। পোশাকের রং বদলায়। পুজো যেমন কে তেমন।” ১০১ বছরে পা দিচ্ছে টালা প্রত্যয়। থিমের সমস্ত প্ল্যান ছকে ফেলা হয়েছে। বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষের এলাকার এই পুজো কলকাতার সেরার সেরা তালিকায় থাকে। এবার সেই কাশীপুর বেলগাছিয়ায় পরাজিত অতীন ঘোষ। জয়ী বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি।

একই পরিকল্পনা শতাব্দীপ্রাচীন টালা প্রত্যয়েরও। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ফিসফাস। “রাজা আসে যায়। পোশাকের রং বদলায়। পুজো যেমন কে তেমন।” ১০১ বছরে পা দিচ্ছে টালা প্রত্যয়। থিমের সমস্তপ্ল্যান ছকে ফেলা হয়েছে। বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষের এলাকার এই পুজো কলকাতার সেরার সেরা তালিকায় থাকে। এবার সেই কাশীপুর বেলগাছিয়ায় পরাজিত অতীন ঘোষ। জয়ী বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি। টালা প্রত্যয় পুজোর সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ঘোষ জানিয়েছেন, নতুন বিধায়কের কাছে অবশ্যই যাব। শুধু বিধায়ক কেন, স্থানীয় সমস্ত জনপ্রতিনিধির কাছেই যাব। শান্তনুর ব্যাখ্যা, “প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া একটা দুর্গাপুজো করা অসম্ভব। পুজো করা একটা পাবলিক জব। ফলে কাউন্সিলর, সাংসদ, বিধায়ক সকলেরই সাহায্য লাগে।” 

কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোর চেয়ারম্যান ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষ। সম্ভাবনা রয়েছে, কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোর নতুন চেয়ারম্যান বদলেরও। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক ডেকেছেন এ পুজোর কর্তারা।

কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোর চেয়ারম্যান ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষ। সম্ভাবনা রয়েছে, কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোর নতুন চেয়ারম্যান বদলেরও। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক ডেকেছেন এ পুজোর কর্তারা। পুজোর সাধারণ সম্পাদক সোমেন দত্তর কথায়, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপুজোর সম্পর্ক নেই। কুশিতে যেই বসুন উৎসবের রং চিরকালই এক। সে রং আনন্দের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণ সেখানে অবশ্য প্রয়োজনীয়। দক্ষিণের অন্যতম বড় পুজো দেশপ্রিয় পার্কের ফ্লেক্সও বদলে যাবে এবার। ইঙ্গিত তেমনই। দেশপ্রিয় পার্কের অন্যতম কর্তা বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ভাই সুদীপ্ত কুমার মারা গিয়েছেন সদ্য। দেশপ্রিয় পার্ক পুজোর আহ্বায়ক ছিলেন দেবাশিস কুমার। রাসবিহারীতে এবার দেবাশিস কুমার পরাজিত হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্তর কাছে। দেশপ্রিয় পার্ক পুজো কর্তারা জানিয়েছেন, এই পুজোর সঙ্গে নতুন বিধায়ককে আমরা অবশ্যই যুক্ত করতে ইচ্ছুক।

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *