একশো বছর পুরনো পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ, আইনের দ্বারস্থ চন্দ্রচূড়

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


আরও জোরাল হল অভিনেতা চন্দ্রচুর সিংয়ের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। ভাই অভিমুণ্য সিংকে নিয়ে আলিগড় পুলিশকে জবানবন্দি দিয়েছেন অভিনেতা। পরিবারের মোট সাতজন সদস্যের বিরুদ্ধে জাল উইলের অভিযোগ তুলেছেন ভ্রাতৃদ্বয়। ২৮ আগস্ট, শুক্রবার আলিগড়ের রোরাভার থানায় তাঁর পিসি-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা মূল্যের পারিবারিক জমি ও পূর্বপুরুষদের বাড়ি দখল করেছেন এবং একটি জাল উইলও তৈরি করা হয়েছে।

শনিবার চলচ্চিত্র পরিচালক অভিমন্যু সিংকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড করেন চন্দ্রচূড়। জালালপুর থানায় প্রায় আধ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সম্পত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি হস্তান্তর করেন। প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ১৪০ বছরের পুরনো এই পৈতৃক সম্পত্তি নিয়েই পারিবারিক বিবাদ এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে অন্দরের কেচ্ছা কেলেঙ্কারি এবার প্রকাশ্যে।

আরও পড়ুন:

পঁচিশ সালের অক্টোবরে অভিনেতার কাকা গঙ্গা সিং মারা যান। এরপর চন্দ্রচূড় পৈতৃক ভিটেয় প্রবেশ করতে গেলে পিসি তাঁকে বাধা দেন। পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে নিজের ঘরে ঢোকার সুযোগ পান। এরপরই সামনে চলে আসে তারকা পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। শনিবার চন্দ্রচূড়ের ভাই অভিমন্যু জানান, সিভিল কোর্টে মামলা করার পর এবার ফৌজদারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার ঘটনার তদন্ত করবে পুলিশ।

জালালপুর এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামজুড়ে রয়েছে সিং পরিবারের সম্পত্তি। এছাড়াও জালালপুর এস্টেট নামে একটি পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি রয়েছে। পিসি গায়ত্রী সিং পরিবারের আরও সাতজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে তৈঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। এফআইআরে পরিবারের সদস্য ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিরও নামোল্লেখ করা হয়েছে।

পৈতৃত সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ

চন্দ্রচূড়ের কাকা গঙ্গা সিং দীর্ঘদিন সুইডেনে থাকতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর গঙ্গা সিং জালালপুরের বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। তাঁর প্রয়াণের পরই পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি, বাড়ি এবং ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। অভিমন্যুর অভিযোগ, “আমাদের দাদু আলিগড়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালে মারা যান। মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে একটি জাল উইল তৈরি করা হয়েছিল। পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এই বড় ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল। ওই জাল উইলের মাধ্যমে সমস্ত মূল্যবান জমি পরিবারের কয়েকজন নির্দিষ্ট সদস্য-সহ আরও দু’জন ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করা হয়।”

আরও যোগ করেন, “কাকা গঙ্গা সিংয়ের স্ত্রী ও ছেলে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়ি এবং জমি দখল করে নেন। অত্যন্ত কৌশলে ওঁরা রাজস্ব নথিতে কারচুপি করেন। নাম পরিবর্তন করেবছরের পর বছর বেআইনিভাবে এই সম্পত্তিগুলি বিক্রি করে দিয়েছেন। আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মুম্বইয়ে। আলিগড় থেকে দূরে থাকার কারণে পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখল করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা ঘুণাক্ষরেও কিছু টের পাইনি। প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। “

অভিনেতার পৈতৃক সম্পত্তি

“আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ে বসবাস করছিল। আলিগড় থেকে দূরে থাকার কারণে আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখল করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনি। এখন প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে আমরা একটি আইনি দল নিয়োগ করেছি। আলিগড়ের আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছিলাম। গত দুই মাস ধরে আমি প্রমাণ সংগ্রহ করছিলাম। এবার ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেছি।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *