বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি পেতেই রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের! শুধু যে তৃণমূলের ৫৮ জন জয়ী বিধায়ক তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তা, নয় এখন নাকি হারা বিধায়কদের একাংশও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকী জাতীয় স্তরের বহু নেতা-নেত্রীও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ নাম- জয়রাম রমেশের।
এই বিষয়ে আরও খবর
বুধবার সরকারিভাবে রাজ্যে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করেছে বিধানসভায়। ঋতব্রতর বিক্ষুব্ধ শিবির তৃণমূলের পরিষদীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে। স্পিকারের বদান্যতায় ঋতব্রত বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেছেন। সূত্রের খবর, তারপরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূলের এক হেভিওয়েট পরাজিত প্রার্থী এদিন নিজে বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তিনি ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নাকি বিরোধী দলনেতার কাছে অনুযোগের সুরে দাবি করেছেন, দলের অন্দর থেকেই তাঁকে হারানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সেকারণেই ‘নিরাপদ’ ক্যানিং পূর্ব থেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ভাঙড় আসনে সরানো হয়। এমনকী প্রচারেও দল সহযোগিতা করেনি। ভাঙড়ের পরাজিত প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত জানান, যে শওকত তাঁর পুরনো নেতা, সিনিয়র। একসময় তাঁর নেতৃত্বে বাম ছাত্র রাজনীতি করেছেন। তাই শওকতের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর আপত্তি নেই। বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্র বলছে, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের তৃণমূলের পরাজিত নেতারা সাহায্য চাইলে তিনি সাহায্য করতে পারেন। তবে কিছু দলীয় বিধায়কের তাঁর বিরোধী ব্লকে ঢোকা নিষেধ। এই মুহূর্তে মমতা-অভিষেকের সঙ্গে রয়েছেন, এমন জনা কয়েক বিধায়ককে ‘ব্লকলিস্টে’ ফেলে দিয়েছেন তিনি।
ঋতব্রতর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শুধু যে রাজ্যের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীরা বিরোধী দলনেতাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাই নয়, সর্বভারতীয় স্তরের বহু নেতা, সংসদে তাঁর প্রাক্তন ঘনিষ্ঠরাও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছেন। যে তালিকায় সবার উপরে নাম কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশ। যদিও ঋতব্রতর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো তাঁর। তবু কংগ্রেসের শীর্ষস্তরের ওই নেতার শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
