সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে ‘খুন’ করতে পারলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পোস্টার মিলল পুরুলিয়ায়। সম্প্রতি কোটশিলা থানা এলাকায় ওই পোস্টার উদ্ধার হয়েছে বলে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর নামে এই খুনের পোস্টারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জঙ্গলমহলের এই জেলায়। রাজ্য সরকারের ‘বুলডোজার অপারেশন’ নিয়ে পুরুলিয়ার সাংসদকে নিশানা করে ওই পোস্টার রয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পুরুলিয়ার সাংসদ পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। সন্দেহজনক চরমপন্থী- নকশালপন্থী পোস্টার বলে উল্লেখ করে তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন সাংসদ।
এই বিষয়ে আরও খবর
বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর নামে এই খুনের পোস্টারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জঙ্গলমহলের এই জেলায়। রাজ্য সরকারের ‘বুলডোজার অপারেশন’ নিয়ে পুরুলিয়ার সাংসদকে নিশানা করে ওই পোস্টার রয়েছে।
অতীতে এই জেলা মাও উপদ্রুত ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই জেলায় মাওবাদীদের কোন কার্যকলাপ নেই। যে পোস্টারটি উদ্ধার হয়েছে তা সাদা কাগজের উপর নীল কালিতে লেখা। সাধারণভাবে সিপিআই (মাওবাদী) পোস্টার গুলি সাদা কাগজের উপর লাল কালিতে লেখা হয়। পোস্টারের নিচে তাদের পার্টির নাম লেখা থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সাদা কাগজের উপর নীল কালিতে লেখা ওই পোস্টারের নিচে কোন নাম নেই। মানভুঁইয়া ভাষায় ওই পোস্টার লেখা। পোস্টারের বয়ান, ”যবে থেকে বিজেপি সরকার এসেছে কারো জীবনে শান্তি নাই, পুরুলিয়ায় যেভাবে ঘর ভাঙছে তাতে জ্যোতির্ময়কে মারা উচিৎ।” ওই পোস্টারে মাঝিডি এবং খৈরি মোড় বলে দুটি এলাকার নাম লেখা রয়েছে। ওই পোস্টারে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ”যদি ভাঙে তাহলে আর ঘুরে ঘর যাতে পারবেক নাই।” পোস্টারের একেবারে শেষ লাইনে লেখা রয়েছে, ”জ্যোতির্ময়কে মারতে পারলে ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে।”

এই প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, “পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।” শুধু তাই নয়, পুলিশের কাছেও এই বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। যেখানে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, পোস্টারটির বিষয়বস্তু ও ভাষা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং অতীতে জঙ্গলমহল অঞ্চলে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারী চরমপন্থী ও মাওবাদী- নকশালপন্থী গোষ্ঠীগুলির প্রচলিত রীতি ও বার্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এলাকার সংবেদনশীল ইতিহাস বিবেচনা করে এই ধরনের ঘটনা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।” সেই সঙ্গে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর উপর আক্রমণের বিষয়টিও তিনি অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন। পোস্টারকে যে হালকাভাবে নেওয়া যায় না সে কথাও লিখেছেন অভিযোগ পত্রে। সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভাবে পোস্টারে রয়েছে কোন চরমপন্থী বা মাওবাদী সংশ্লিষ্ট সংগঠন এলাকায় তাদের কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে কিনা তা দেখতে হবে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
