- গোবিন্দ তালুকদার
অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বলিহার গ্রামে ১৯৫৬ সালে জন্ম গোবিন্দ তালুকদারের। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে চলে আসেন। আশ্রয় নেন মামাবাড়ি গঙ্গারামপুরের নীলডাঙা গ্রামে। সেখানেই প্রাথমিক পড়াশোনা। পরে গঙ্গারামপুর হাইস্কুল থেকে শিক্ষালাভ। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক গোবিন্দ রাজ্য সরকারের ভূমিসংস্কার দপ্তরে বিভিন্ন পদে কাজ করে রাজস্ব আধিকারিক হিসাবে কর্মজীবন থেকে ২০১৬ সালে অবসর নেন। এখন বুনিয়াদপুরে তাঁর স্থায়ী বসবাস।
ছাত্রাবস্থা থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। সেই ভালোবাসা ক্রমে হয়ে উঠেছে আজীবনের সাধনা। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘আয়নায় দেখি মুখ’, ‘স্বাক্ষর রেখে যাই অক্ষরে অক্ষরে’, ‘স্পন্দন খুঁজে চলি’, ‘বাহা পরবের আলো’ এবং একলাইনের কবিতাসংকলন ‘বকুল ফুলে গাঁথা মালা’। আঞ্চলিক কথ্য ভাষায় লেখা গল্পসংকলন ‘আন্ধারমানিক’ এবং অণুগল্পগ্রন্থ ‘অনুরণন’ তাঁর সাহিত্যচর্চার আর এক পরিচয়।
কবিতা ও কবিতা বিষয়ক পত্রিকা ‘কবিতা জগৎ’-এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত তিনি। তাঁর সম্পাদিত এই পত্রিকা ২০২৫ সালে বহরমপুরের এক ঐতিহ্যবাহী সংস্থার ‘বাসভূমি সেরা বাংলা লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কার’-এ সম্মানিত হয়েছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। পেয়েছেন বিভিন্ন সাহিত্য সম্মান ও পুরস্কার। জেলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার কাজে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। নাটকের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ক্ষেত্রসমীক্ষার মধ্য দিয়ে নিরন্তর অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন লোকজীবন ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে নানা পত্রপত্রিকায়।
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, বহির্রাজ্য এবং বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্থা ও অক্ষরশিল্পী মহলের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগাযোগ নিবিড়। কর্মসূত্রে গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়ানো এবং গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে সহজ মেলামেশা তাঁকে চিনিয়েছে লোকজীবনের নানা রং। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে চলিত ভাষা ও আঞ্চলিক কথনের সুর মিশিয়ে তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের যাপনচিত্র। মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষজন, তাঁদের কথাবার্তা ও জীবনবোধ তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে নিজস্ব স্বর।
তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, অক্ষরের ভালোবাসা অক্ষয়। প্রকৃতি ও মাটির সোঁদা গন্ধে জারিত হয়ে গোবিন্দ তালুকদার আজও মেতে রয়েছেন সাহিত্য-সংস্কৃতির আলোছায়ায়, তার মায়ায়।
The publish উত্তরের সাহিত্যিক appeared first on Uttarbanga Sambad.
