অতুলচন্দ্র বসাক
দেশভাগের পর পশ্চিম দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার চাভোট গ্রামের এক কৃষক পরিবারে ১৯৪৭ সালের ৪ অক্টোবর অতুলচন্দ্র বসাকের জন্ম। পাঁচ বছর বয়সেই পথ দুর্ঘটনায় বাবাকে হারান। তারপর থেকেই নানা বাধা, দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনসংগ্রাম ও লেখাপড়া শুরু হয়। পড়াশোনা শেষ করার পরও দীর্ঘদিন সরকারি চাকরির চেষ্টা চালান। পরে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পান। ১৯৭৯ সালে নিজের সম্পাদনায় সংবাদ ও সাহিত্য পত্রিকা ‘গামারী বার্তা’ প্রকাশ করেন। পরে ১৯৮৪ সালে ‘সরাইদিঘি সমাচার’ নামে পত্রিকাটির রেজিস্ট্রেশন হয়। সেই সময় থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে পত্রিকাটির প্রচার ও প্রসার ছিল বেশি। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ ও সাহিত্যচর্চার এই পথেই তিনি উত্তরবঙ্গের পাঠকসমাজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন এবং নিজের লেখালেখির পরিসরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। এই সাধনা দীর্ঘদিন অব্যাহত রেখেছেন। সম্পাদক হিসেবে ইসলামপুরের মায়া মঙ্গল প্রিয়তোষ স্মৃতি সংগীত সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সাহিত্য সম্মানও পেয়েছেন।
নির্ভীক সাংবাদিকতার পাশাপাশি ছোটগল্প ও কবিতা লিখেছেন। তাঁর লেখা নিজের পত্রিকার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে। ‘সরাইদিঘি সমাচার’ বন্ধ হওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য সাহিত্যচর্চায় যুক্ত থেকে ফের ছোটগল্প ও কবিতা লেখেন। ‘কালিয়াগঞ্জ বার্তা’ ও ‘কালের রাখাল’-এর মতো পত্রিকায় লিখেছেন। সম্পাদক কবি অরুণেশ্বর দাসের ‘ত্রিকাল’-এর পাশাপাশি প্রয়াত কবি নিতাইচন্দ্র সরকার সম্পাদিত ‘অভিব্যক্তি’ পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়ে পাঠকদের প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছে। অরুণেশ্বরের সহযোগিতায় অতুলের একটি কবিতা–ভিডিও কবিতাপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। ২০১২ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর লেখালেখিতে প্রভাব। আরও অনেক রোগ আজকালকার সর্বক্ষণের সঙ্গী। তবুও সব সামলে একদিন সগৌরবে লেখালেখির জগতে ফিরবেন বলে স্বপ্ন দেখেন।
The submit উত্তরের সাহিত্যিক appeared first on Uttarbanga Sambad.
