‘ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে যখন ভারতে হামলা হয়’, রুশ তেল প্রসঙ্গে মুখের উপর জবাব জয়শংকরের

‘ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে যখন ভারতে হামলা হয়’, রুশ তেল প্রসঙ্গে মুখের উপর জবাব জয়শংকরের

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


রাশিয়ার থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে পরোক্ষভাবে রুশকে সাহায্য করছে ভারত। দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই ইস্যুতে প্রশ্ন উঠলে মুখের উপর কড়া জবাব দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। স্পষ্টভাষায় জানালেন, ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে বছরের পর বছর ধরে হামলা হয়ে এসেছে। তবে ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ করেনি যাতে ইউরোপের কোনও ক্ষতি হয়।

সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন রাশিয়া সম্পর্কে নরম মনোভাব ভারতের? ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও কেন রুশ তেলের উপর নির্ভর তাঁরা? এর জবাব দিতে গিয়ে ইউরোপের অস্ত্র ও ভারতের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তোলেন জয়শংকর। তিনি বলেন, “ভারতের অস্ত্র দিয়ে কখনও ইউরোপের কোনও দেশে হামলার ঘটনা ঘটেনি। যদি এই কথাটাই আমি ইউরোপের ক্ষেত্রে বলতে পারতাম তবে ভালো হত। ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে ভারতে হামলার ঘটনা ঘটে। বছরের পর বছর ধরে এই ঘটনা ঘটে আসছে। আমার মনে হয় বিষয়টি চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।”

আরও পড়ুন:

জয়শংকর বলেন, “ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে ভারতে হামলার ঘটনা ঘটে। বছরের পর বছর ধরে এই ঘটনা ঘটে আসছে। আমার মনে হয় বিষয়টি চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।”

এর পাশাপাশি রুশ তেল ক্রয় প্রসঙ্গে জয়শংকর বলেন, “ভারত কোনও দেশের ভূ-রাজনৈতিক বিষয় মাথায় রেখে তেল ক্রয় করে না। তেল কেনা হয় দাম ও সহজলভ্যতা নজরে রেখে। ভারত অতীতে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল কিনেছে। ইউরোপও এখান থেকে তেল কেনা শুরু করলে ভারতের কাছে বিকল্প হয়ে ওঠে রাশিয়া। পরিস্থিতি আমাদের ওই পথে নিয়ে গিয়েছে।” একইসঙ্গে আমেরিকার দিকে আঙুল তুলে জয়শংকর বলেন, “আমেরিকাই ভারতকে রুশ তেল কিনতে বলেছিল যাতে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি না হয়। তবে ওয়াশিংটনের কথায় নয়, ভারত নিজেদের স্বার্থেই রুশ থেকে তেল কেনে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমের একাধিক দেশ রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। যদিও জার্মানির মতো বহু দেশেই রুশ গ্যাস আমদানি এখনও অব্যাহত। রুশ গ্যাস না থাকলে জার্মানি কার্যত অচল হয়ে পড়বে, এমনটাই শোনা যায়। সেসময়ে কমদামে রুশ তেল কেনা শুরু করে ভারত। হু হু করে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রথম থেকেই এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা। কিন্তু নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান ছিল, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যেখান থেকে তেল আমদানি লাভজনক, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছেন জয়শংকর থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে সতর্ক করার আগে পশ্চিমি দেশগুলি নিজেরা যেন রুশ পণ্য পুরোপুরি বয়কট করে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *