কিছুদিন আগে নবান্নে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সদস্য হিসেবে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের ঘরে গিয়ে দেখা করেছিলেন আকাঙ্খা বিদ্যার্থী নামে এক যুবতী। তাঁকে দিল্লি থেকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন ওই যুবতী। এবার এই ঘটনায় অভিজিৎ মাহাতো নামে আরও এক ব্যক্তিকে কলকাতার পঞ্চসায়র থেকে গ্রেপ্তার করল শিবপুর থানার পুলিশ। অভিজিৎকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে তার ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাঙ্খাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই আকাঙ্খা অভিজিতের নাম বলে। তদন্তে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, নবান্নে মন্ত্রীর ঘরে আকাঙ্খার সঙ্গে অভিজিৎও গিয়েছিলেন। অভিজিতের কোচবিহারের মাথাভাঙায় একটি আইটি কলেজ রয়েছে। ওই আইটি কলেজটি ঠিকমতো চলছে না। আইটি কলেজটি চালাতে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
বিজেপি নেতৃত্ব যাতে কলেজটি চালাতে বাধা না দেন সে ব্যাপারে মন্ত্রীর কাছ থেকে সুপারিশ চাইতেই সেদিন নবান্নে আকাঙ্খা ভুয়ো পরিচয় দিয়ে অভিজিৎকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রীর ঘরে গিয়েছিলেন। ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শিবপুর থানার তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে এই তথ্যই পেয়েছেন। অভিজিৎকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়। জানা গিয়েছে, ড. আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নামে এক মহিলা নবান্নে যান। নিজেকে পিএমও কর্মী পরিচয় দিয়ে পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের সঙ্গে দেখা করার সময় চান। দেখাও করেন তিনি। নবান্নে সাক্ষাতের সময় তাঁর কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয় অজয়বাবুর। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই মহিলার পরিচয় যাচাই করার উদ্যোগ নেন। অভিযোগ, সামান্য সময়ের মধ্যেই উধাও হয়ে যান মহিলা। এদিকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় মহিলার দাবি মিথ্যে। রাতেই শিবপুর থানায় বিএনএস (BNS)-এর ৩১৯(২)/২০৪/৩৪০(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। এদিকে ততক্ষণে জানা যায় ওই মহিলা কলকাতা ছেড়ে বিমানে করে দিল্লিতে নিজের বাসভবনে চলে গিয়েছিলেন। শিবপুর থানার তরফে বুধবার রাতেই একজন মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে একটি দলকে দিল্লিতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেন্ট্রাল দিল্লির বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরা করে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর ‘পুরুষসঙ্গী’কেও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
