৭৬ বছর বয়সেও তাঁর প্রাণশক্তি অবাক করে। ‘দ্য ডেভিলস্ উইয়্যার প্রাডা’-র নজরকাড়া অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ (Meryl Streep) দেখিয়ে দিচ্ছেন, ফিট থাকার জন্য জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো নয়, দরকার নিয়মিত সঠিক অভ্যাস। আর সেই অভ্যাসটাই হল, প্রতিদিন নিয়ম করে সাঁতার।
দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি বারবার প্রমাণ করছেন, বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে শরীরের ভেতরের শক্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় এক মাইল সাঁতার কাটা তাঁর রোজের অভ্যাস। আজকের ফিটনেস বিজ্ঞানও বলছে, বয়স বাড়লে শরীরকে ‘চ্যালেঞ্জ’ দেওয়ার চেয়ে তাকে ‘সাপোর্ট’ করাই বেশি জরুরি। আর সেখানেই এগিয়ে সাঁতার।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
বয়স বাড়লে কেন সাঁতার বেশি উপকারী?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ধিস্থল বা জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে স্টিফনেস বা জড়তা, হার্টে সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে শুরু করে। এই সময়ে হাই-ইনটেনসিটি জিম বা ভারী ব্যায়ামের বদলে লো-ইমপ্যাক্ট ব্যায়ামই বেশি নিরাপদ। সাঁতার সেই দিক থেকে একেবারেই আদর্শ। সাঁতারে পুরো শরীরের মুভমেন্ট হয়। জল শরীরকে ভাসিয়ে রাখে, ফলে হাঁটু, কোমর বা পিঠে বেশি চাপ পড়ে না, অথচ পুরো শরীরই সক্রিয় থাকে।
সাঁতার হার্টের জন্য ‘সাইলেন্ট বুস্টার’
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সাঁতার হার্টের অসুখের অন্যতম প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে হার্টকে ভালো রাখে। রক্তনালির কার্যকারিতাকে উন্নত করে এবং হৃদ্স্পন্দনে রাখে স্বাভাবিক ছন্দ।

৭০ পেরিয়ে জিমে অতিরিক্ত ব্যায়াম কেন বিপজ্জনক?
জিম খারাপ নয়, কিন্তু সব বয়সে সব ধরনের ব্যায়াম সমানভাবে মানানসই নয়। বিশেষ করে ৭০-এর পর হঠাৎ করে ভারী ওয়ার্কআউট শুরু করলে শরীর সেটা নাও নিতে পারে। দেখা দিতে পারে অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন। বাড়ে পেশি বা জয়েন্টে আঘাতের সম্ভাবনা। এমনকী বাড়তে পারে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও। যাঁরা আগে খুব একটা শরীরচর্চা করতেন না, তাঁদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
সাঁতার বনাম জিম, কে এগিয়ে?
দেখতে গেলে জিমে দ্রুত ফল মিলতে পারে, কিন্তু সেটি সবার জন্য নিরাপদ নয়। অন্যদিকে, সাঁতার ধীরে হলেও স্থায়ীভাবে শরীরকে সুস্থ রাখে। এতে আঘাতের সম্ভাবনা কম, আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়াও সহজ। গবেষণাও বলছে, মাঝারি মাত্রার নিয়মিত ব্যায়ামই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি উপকারী।
শুধু শরীর নয়, মনের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী
সাঁতার শুধু শরীর নয়, মনকেও ভালো রাখে। জলে সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে, মন শান্ত হয় এবং ঘুমের গুণগত মানও উন্নত হয়। অনেকের কাছে এটি মেডিটেশনের মতো কাজ করে।

ফিট থাকার আসল মন্ত্র
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের কথায়, অতিরিক্ত নয়, নিয়মিত শরীরচর্চাই আসল। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। প্রতিদিন সক্রিয় থাকাতেই লুকিয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার মন্ত্র। হালকা ব্যায়াম শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। আর সহজ রুটিনও বছরের পর বছর মেনে চলা সম্ভব হয়।
প্রবীণদের জন্য কিছু জরুরি সতর্কতা
সাঁতার যতই নিরাপদ হোক, কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন-
- পুলের পাশে পা পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট ব্যবহার করুন
- প্রয়োজনে হ্যান্ডেল বা সাপোর্টিভ হাতল রাখুন
- কোনওরকম অসুস্থতা থাকলে একা সাঁতার না কাটাই ভালো
- নতুন করে শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
মেরিল স্ট্রিপের জীবনযাপন একটি সহজ সত্যি মনে করিয়ে দেয়, ফিট থাকতে হলে কঠিন কিছু নয়, দরকার ধারাবাহিকতা। সাঁতার সেই সহজ, নিরাপদ আর কার্যকর পথ, যা বয়স বাড়লেও শরীর ও মন- দুইকেই তরতাজা রাখে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
