দু’বছর দেশছাড়া হয়ে থকার পর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ফেরার ঘোষণায় ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামি লিগ ফের একবার চাঙ্গা হয়ে উঠল। শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় মিছিল বের করে আওয়ামি লিগ। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। শনিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫১৫ জনকে। রাজধানীর ৭-৮টি জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর।
ঢাকা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাজধানীর একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দায়ের হয়েছে ৪৭টি মামলা। শহরের প্রবেশমুখ-সহ গুরুত্বপূর্ণ ২৫০টি জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, ৮টি ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক-সহ আরও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য।
আরও পড়ুন:
সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বোমা ছোড়া হয়। পালটা রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। সেই মিছিলের পর ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামি লিগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সেই ঘটনার পর দলটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় দলের একটি অংশ নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তারা রাজনৈতিক ভাবে ফের ময়দানে নামতে প্রস্তুত হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই রাজধানীর গুলশনে মিছিল বের করা হয়। যেখানে যোগ দেন আওয়ামি লিগ ও ছাত্রলিগের প্রায় দু’শো নেতাকর্মী। সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বোমা ছোড়া হয়। পালটা রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। সেই মিছিলের পর ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠক ও জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ‘মিটআপ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। দেশে অস্থিরতা ও জেহাদের জন্য লোক সংগ্রহের অভিযোগে তাঁদের ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছে আদালত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দলের একাংশ চাঙ্গা হলেও আওয়ামি লিগের আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
