মাও বঙ্গ ব্রিগেডের কফিনে শেষ পেরেক! পুলিশের জালে কিষানজি-আকাশের ২ দেহরক্ষী

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


পরিবারের ডাকেও বাড়ি ফেরেননি। মাও নেতা কিষানজি থেকে আকাশের দেহরক্ষী মঙ্গল মাহাতো-সহ তাঁর স্ত্রী মালতি মুর্মু অবশেষে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের জালে। শনিবার দুপুরে ধৃত মাওবাদী মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রাম থেকে দু’জনকে পাকড়াও করা হয় বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। শনিবার রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, আকাশের গ্রেপ্তারের পরেই বঙ্গ ব্রিগেডের মাও দম্পতি মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলে অস্ত্র ফেলে ধৃত সহযোদ্ধার বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। অবশেষে আকাশের গ্রেপ্তারের দু’ দিনের মাথায় সশস্ত্র বিপ্লবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ‘একলা নিতাই ‘ হয়ে থাকা দুজন পুলিশের হাতে। এই দম্পতি পুলিশের হাতে চলে আসায় জঙ্গলমহলের পাশাপশি মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সামরিক বাহিনীর শেষ পেরেক পুঁতল এসটিএফ। সাত লাখি এই মাও দম্পতি ধরা পড়ায় স্বস্তি মিলেছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশেরও। 

মাও মুক্ত ভারত ঘোষণার পর অপারেশন কাগারে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক চাপে আকাশ-সহ ১০ জন বাংলামুখী হন। দলমায় ফেরার পরেই আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং ও মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন। ৬ জনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় ভেবেই স্কোয়াড ভেঙে শহরমুখী হন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা রাজ্য সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ।

আরও পড়ুন:

পুলিশ সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার রঞ্ঝা গ্রামে বাড়ি পতিত মাহাতো ওরফে পাপ্পু ওরফে মঙ্গল ওরফে সমীর ওরফে পান্ডে-র। তিনি সিপিআই (মাওবাদী)-র সাব জোনাল কমিটির সদস্য। ফাইটার হিসাবে পরিচিত ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর মাথার দাম রেখেছিল পাঁচ লাখ টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রী মলিনা মুর্মু ওরফে মালতী ওরফে মালার বাড়ি ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার পাথরনাসা গ্রামে। তিনি ওই সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও দু’লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। মঙ্গলের হাতে জঙ্গল যুদ্ধে একে ৪৭ এবং মালতির হাতে ইন্সাস রাইফেল থাকত। 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গল ২০০৮ সাল থেকে মাও কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে ক্যুরিয়ার পরে স্কোয়াড সদস্য। বছর ৩২-র ওই যুবক ২০০৯ সালে স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে নবম শ্রেণিতে সশস্ত্র সংগ্রামে যোগ দেন। লালগড় আন্দোলনে যথেষ্ট ভূমিকা ছিল তাঁর। পরে কিষানজির দেহরক্ষীর দায়িত্ব সামলান। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া এক মাত্র মঙ্গল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি ঘটনাস্থল থেকে বাহিনীর ঘেরা টপকে পালিয়ে বাঁচেন। অন্যদিকে বছর তিরিশের মালতির যখন ২ বছর বয়স তখন তাঁর মা জ্বরে মারা যান। বাবা দিনমজুরের কাজে বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে জেঠুর বাড়িতে থাকতেন মালতি। ১৫ বছর বয়সে তিনিও মাও স্কোয়াডে যুক্ত হন। পরে ওই দুজনের কমরেড ম্যারেজ হয়। ২০১১ সালের পর তাঁরা দুজনেই ঝাড়খণ্ডে আকাশের স্কোয়াডে শামিল হয়ে আত্নগোপন করেন। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, সেখান থেকে দলমা, ত্রি-সীমানা হয়ে পশ্চিম সিংভূম জেলার ৭০০ পাহাড়ের সারান্ডার জঙ্গলে সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় হেডকোয়ার্টারে থাকা শুরু করেন।

তবে মাও মুক্ত ভারত ঘোষণার পর অপারেশন কাগারে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক চাপে আকাশ-সহ ১০ জন বাংলামুখী হন। দলমায় ফেরার পরেই আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং ও মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন। ৬ জনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় ভেবেই স্কোয়াড ভেঙে শহরমুখী হন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা রাজ্য সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ। তাঁর চলে যাওয়ার পরেই শচিন, মিতা ও মদনের স্ত্রী জবা বাঁকুড়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পনে রাজি হন। বর্তমানে তারা পুলিশের সেফ হাউসে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেও ‘একলা নিতাই’ মঙ্গল স্ত্রীকে নিয়েই বাংলা-ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বলে জানতে পারেন পুলিশ আধিকারিকরা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। পরের দিন তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মঙ্গলের সম্ভাব্য থাকার এলাকা জানতে পারে গোয়েন্দারা। অন্যদিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ হওয়ার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি ধরে পশ্চিম মেদিনীপুরে পৌঁছান। আর সেখান থেকেই এসটিএফ তাঁদের নিয়ে যায় বলে খবর।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *