এ মাসে কখন কী হয়, কেউ জানে না
সন্দীপন নন্দী
হয়তো জেন জেডরা বলবে, এই সেই আনপ্রেডিক্টেবল মৌসম, যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই রোদ তো এই বৃষ্টি। যে ঝকঝকে আকাশের শত বারণ উপেক্ষা করেও মুহূর্তের নোটিশে মেঘমালায় চন্দ্র তারা সূর্য ঢেকে দিতে পারে। বর্ণনায় যা দেখতে মুছে ফেলা সিঁদুরের মতো, খানিক গ্লকোমা বিধ্বস্ত চোখের মতো জ্যোতিহীন। তাই ভাদ্রে কখন কী হয়, কেউ জানে না!
আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে তার চিরকাল দ্বন্দ্ব অহর্নিশ। মেলে না, কিছুই মেলে না। একালে কাপড় কেচে ছাদে মেলে দিয়ে দু’দণ্ড পার্কে প্রেম বা সুখে শান্তির শপিং অথবা আইনক্স-ভ্রমণ অনিশ্চিত অসম্ভব ব্যাপার। কেননা গত মাসের বিদায়ি শ্রাবণ ঘন হয়ে কখন ফিরে আসে কে জানে? পরিবর্তে বর্ষাশেষেও কাঁটাতারের ওপার হতে ডিপ্রেশনকে যেচে দাওয়াত দেয় এই অবিবেচক ভাদ্র। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রাকলগ্নে মনখারাপে ভরিয়ে তোলে। যে মাসের আকাশ নদী ময়দানে ভরসা নেই। বৃষ্টিবিঘ্নিত ক্রিকেট ম্যাচের মতো সর্বত্র একটা সামগ্রিক সৃষ্টিতে জল ঢালার প্রস্তুতি নেয় ভাদ্র। থিমপুজো থেকে রাত জেগে নির্মীয়মাণ জাতীয় সড়ক, সময়ে সমাপ্ত করা হেল্থসেন্টার থেকে কথা রাখা ঠিকাদারের নদীপারের ঢালাই, সকলেই এর ভরা রোদ দেখে ঠকে যায়। ভাদ্র তাই প্রতারকও বটে।
ফলে হাওয়া অফিস প্রদত্ত মেঘমুক্ত পূর্বাভাসেও প্রতিবার একটা দুটো অঙ্ক ভুল হয়েই যায়। পঞ্জিকায় অলিখিত বন্যা বা অচেনা দুর্যোগের আকাশবাণীতেই শুরু হয় বাঙালির আসন্ন শরৎ। যে মাসে রোদ ঝলমল দুপুর দেখে ছাতাহীন বহিরাগত পথিকের সহসা কাকভেজা হয়ে ঘরে ফেরাটাই স্মরণীয় সংবাদ। কখনও সদ্য নির্বাসিত প্রেয়সীর মতো অনিশ্চিত, কখনও কথা দিয়ে কথা না রাখা মহৎ প্রেমিকের মতো সে ন্যাকা ও একা।
তবু এই মাস আগাগোড়া এক অপূর্ব অপেক্ষার দিবসরজনী। যা আছে না আছে তবু মনে রেখোর মতো। না জেনে সাতপাকে বাঁধা পড়া ভারসাম্যহীন স্বামীকে বছর বছর সহ্য করার সমতুল্য। যখন সংসারগহনে নির্ভয়নির্ভর নির্জনসজনে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকতে বাধ্য করে তার প্রিয় জল তার প্রিয়তম বাতাস। অথচ বাহিরপানে চোখ মেললেই দেখা যায়, রাধার চিরসখা কৃষ্ণ এই ভাদ্রের অতর্কিত বৃষ্টিদিনেই মথুরাগামী। যে ভরাবাদরের মাহ ভাদরে শূন্যমন্দিরের মাথুরগানেই প্রকট হয় বিরহী রাধিকার মানসিক সংশয় থেকে কৃষ্ণহীন সংকট। ক্রমশ প্রিয়র অবর্তমানে নিকষ কালোয় ভরে ওঠে চারিধার। দেখতে দেখতে একদা রোমান্সের ভাদ্র হয়ে ওঠে বিসদৃশ বেমানান, তুঁহু মম শ্যাম সমান।
তবে প্রতিটি মেনে নেওয়ারও তো একটা সীমা থাকে। প্রেমে আছে অপ্রেমে আছে ভুলে আছে ঠিকেই আছে, প্রাণের পরে চলে যাওয়াতে আছে, ভুলে যাওয়াতে আছে। যার আসা যাওয়ার পথের ধারে কখনও বৃষ্টি, কখনও আবছা শরৎ হামাগুড়ি দেয় রোজ। তাই ভাদ্র দুটো অভিজাত মাসের মাঝে যেন এক দোমড়ানো ম্রিয়মাণ মধ্যবিত্ত মাস। যার দু’হাত দূরে থাকে নিস্তরঙ্গ আত্রেয়ীজলে ভাসমান নাম না জানা কোনও মাঝি, হয়তো সম্মুখে থাকে জোর করে উৎসবে ফেরা কোনও বিচিত্র মানবী। শুধু মাঝে বসে কাল গোনে ঐ বিশেষ ও বিচিত্র ভাদ্র। যার নিজের বলে সত্যিই কিছু নেই। বরং প্রকৃত প্রস্তাবে বারোমাসের প্রত্যেকেই তার তরে কিছু না কিছু উপহার রেখে চলে যায় প্রতিবার। ঝড় বন্যা অতিবৃষ্টি বা ক্লাউডবার্স্টের মহার্ঘ গিফট।
এটাই ঋতুবিনিময়ের আশ্চর্য প্রোটোকল। যে প্রাকৃতিক আদালতে ভাদ্রের বিস্তর বদনাম। অথচ সবকিছু ভেস্তে দিয়েও এ মাস যুগে যুগে হৃতগৌরব উদ্ধারে উদগ্রীব ও শেষমেশ ব্যর্থ। কিন্তু বাস্তব এই যে আজ নিখিলবিশ্বে তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও প্রকৃত ভাদ্র বলে কিছু নেই আর। আক্ষরিক অর্থেই আমাদের ছোটবেলার ভাদ্র মরে গেছে সেই কবে। দরজা খুলে চলে গেছে নিমাই সন্ন্যাসীর মতো। এল নিনো আর দূষণের দাপটে সে এখন অনাত্মীয়। বন্ধু, প্রেমিক, ভরসার খেতাব হারিয়ে জীর্ণ কলঙ্কিত, রংচটা অবিশ্বাসী। ঐতিহ্যের যে মাসে আজ কেবল তীব্র ও তুমুল রোদ বৃষ্টি হাত ধরে খেলা করে। এটুকুই।
তবু এহেন দৃঢ় ভাদ্রের, লাগে না মনে, তোমরা যা বলো তাই বলো! বরং যে মাসে মানবিক উপলব্ধির বেড়া ভেঙে বদলে যায় নদীচর, বদলে যায় পুরসভা, বদলে যায় পঞ্চায়েতের কচুরিপানায় উথলে ওঠা তালপুকুরের চঞ্চল জল, বদলে যায় সরকারি কাজের দিনপ্রতি লেবার পেমেন্ট, বদলে যায় আবাসের ঘর, বদলে যায় পদ্মার ইলিশ, বদলে যায় অতসীমামির সংসার, বদলে যায় শিউলির দিনরাত্রি। অচিরে জলের অভাবে আমদানিহীন মাছ বাজারে বুক চিতিয়ে একা লড়ে যায় রকমারি সামুদ্রিক মৎস্যসম্ভার। শুকনো পুকুর ও রুক্ষ নদীর সৌজন্যে শোল, চিতল, রাইখর হয়ে ওঠে বাঙালি পাতের দূরদ্বীপবাসিনী জীব। ওদিকে ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙে, তরমুজ, তাল আর পাকা পেয়ারাই সাকুল্যে মরশুমি বৈচিত্রের ঐক্যে, সবজি মার্কেটে নিঃসঙ্গ একক হয়ে সা রে জাহাঁ সে আচ্ছা গান গায়।
ফলে আর্থিক সংকটে চলা সংসারের দৃশ্যরূপ পথেঘাটে তৈরি হয়েও বারবার ভেঙে যায় একালে। এই ভালো তো এই খারাপ। ভাদ্র যেন ভাগ্যচাকায় রেসের মাঠ হয়ে এদিক ওদিক ঘুরঘুর করে। তাই ভাদ্রকে সর্বহারার মাস বলাই যায়। নিঃস্ব, নির্জলা এক মাসের নাম ভাদ্র। যে সময় রৌদ্রতাপে শুকিয়ে যায় হরেকরকম ফুল থেকে পদ্মদিঘির কালোজল। যখন বর্ষার অব্যবহিত পরেও প্রখর তাপের বিজ্ঞানে বাতাসে বাড়ে আপেক্ষিক আর্দ্রতা। একদা কার্শিয়ং কালিম্পংয়ের সহনশীল ত্রিশ ডিগ্রির চিরপরিচিত ভাদ্রকেও আজ বৈশাখী রাজস্থান বলে ভ্রম হয়। শুধু বিবিসি পোর্টালে স্ক্রল যায়, অগাস্টেও মিরিকে এসি চলে ঘরে ঘরে।
এই তো বিশ্বাসঘাতক ভাদ্র। যে মাসের শেষরাতে এখন অতীতের কাঁথা গুম মেরে পড়ে থাকে বক্সখাটে। প্রতিদিন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাসে আগামী আনন্দোৎসবের পরিচয় পর্বেও ভাদ্র থাকে সম্পূর্ণ মূক ও বধির। কেননা এই অযাচিত ভাদ্রমাসেই পথেঘাটে বিধবা রতিমঞ্জরী থেকে বিশ্ব মিত্তিরের পৃথিবীতে, আড়াল বলে কিছু থাকে না। সাহিত্যে নেই কাব্যে নেই, সব যেন এক প্রচ্ছদহীন ফুটপাথের উদোম পৌরাণিক নবকল্লোল। যেথায় আশা নেই, আকাঙ্ক্ষারাও বাদ।
গতকাল খবর আসে দার্জিলিংয়ের ক্লক টাওয়ার থেকে ম্যালের অভিমুখে হাঁটতে হাঁটতে পর্যটকের মাথায় রোদে ছাতা দেখা যায়। সমতলের ভ্যাপসা ভাদ্রেও ছাঙ্গু লেকের হুহু শীত উধাও। ফলে পাহাড়ে ট্যুরিস্ট নেই, ব্যবসায় মন্দা। এ দৃশ্য কতটা গর্বের বা কতটা লজ্জার ভাদ্র জানে। তবে এরপরও গোধূলির গজলডোবায় বালিহাঁস দেখতে দেখতে শীতল বাতাসের সন্ধানে ছিল যে তরুণ কিংবা দু’বিঘা আমন ধান লাগিয়ে নির্বিঘ্ন লাভের প্রত্যয়ে দিন গুনছিল যে কৃষক, মেঘমুক্ত আকাশ দেখে দু’দম হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে বাইপাস সার্জারি করা বৃদ্ধ, সব কথা সমীপেষু করা সে ভাদ্রই সকলের মনে কি দ্বিধা রেখে চলে গেল। নকশালের মতো বাড়িতে সে কখন আসে কখন যায়, কিছুই বোঝা যায় না।
এই তো অনুভূতিহীন ভাদ্রের ভ্যারাইটি। ভরপুর ভরসা করলেও যার গ্রহণে ঋণী করার ক্ষমতা সীমিত। তাই হিসেবি বাবার মতো এ প্রকৃতির জল, বৃক্ষ, ঝড়, আনন্দ, আক্ষেপ, বিদ্রুপ, মোহ ও বিষাদকে সে খরচ করে মেপে মেপে। যার ক্রমে আসা শীত শীত রুক্ষত্বকের সৌন্দর্য নেই, বসন্তসম আপাত আপনভোলা উড়ান নেই, নেই এমনও দিনে তারে বলার মতো নিবিড় অভিব্যক্তিবোধ। এ ভাদ্র বড় হিসেবি বড় নীরস ও হৃদয়বিদারক। যেন বেরসিক প্রকৃতির এক অনিঃশেষ ফিক্সড ডিপোজিটের উৎস এ মাস। দরকারমতো সে দেবে আর গণ্ডূষ ভরে নেবে সকলে। বরাদ্দের একটুও বেশি দেবে না এই ভীরু ও সচেতন ভাদ্র।
যখন ঘরে ঘরে তিরঙ্গার মাঝেই ভাল্লাগে না, হয়ে ওঠে ভাদ্রের শ্রেষ্ঠ রোগের রুদ্ধসংগীত। পরিসংখ্যান বলছে, মেঘলা দিনে আত্মহত্যা বাড়ে। কারণ আলোহীনতাই নাকি হরমোন, স্নায়ু, পেশিকে বিচিত্র করে তোলে। শরীরে সেরোটোনিন কমে মেলাটোনিন তীব্র হয় ধীরে। শিশু থেকে তরুণ, কিশোর হোক বা মাঝবয়সি তন্বী, সকলের ক্ষেত্রে সমান এ প্রতিক্রিয়া। ফলে এ ভাদ্রেই রোদহীন দুপুর বা মেঘ করে আসা সকালে সকলে সর্বজনীন অলস হয়ে ওঠে। জেন জেডের কথায় ল্যাদ। ফলে অফিসে অনিবার্য লালকালি, স্কুলে স্কুলে প্রেয়ারলাইন মিস করা হতচকিত দিদিমণি থেকে শ্রীতমার অ্যালার্ম ঘড়ি বেজে গেলেও ডোরবেল বাজিয়ে ফিরে যায় কাজের দিদি। সব দৃশ্যের জন্ম দিয়ে যায় অসচেতন ভাদ্র। কোথায় আশ্বিনের শারদপ্রাতে আলোর বেণু বেজে ওঠার প্রস্তুতি নেবে, বদলে নিজেই বদলে গেল সে। গৃহে গৃহে হয়ে উঠল মনখারাপের ফেরিওয়ালা। শুধু নাই আর নাই। পদ্ম নাই শিউলি নাই। গান নাই কবিতা নাই, চমকে ওঠা ছোটগল্প নাই। একটা ধু-ধু বিষণ্ণবোধ অমৃতকুম্ভের সন্ধানে গাছে গাছে ঝুলে থাকে।
ঋতুবদলে মন পরিবর্তনের যে অভিঘাতকে চিকিৎসকরা বলেন সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার বা স্যাড। যে অসুখ মহামারির মতো আজ মনে মনে ছড়িয়ে চলেছে ভাদ্র। সে খবর কে রাখে? ফলে মনকেমনের যে জন্মদিনে চুপ করে থাকা সত্যিই কঠিন। বড় কঠিন। অতএব ভালো হও ভাদ্র। ভালোবাসো। এটুকু ভদ্রতা তো চাইতেই পারি!
তাল গাছের নীচে হারিয়ে যাওয়া সময়
অনিন্দ্য সরকার
‘মাঠে প্রকাণ্ড তালদিঘি, নেপাল সেখান থেকে তাল কুড়িয়ে এনে গাঁয়ে বিক্রি করে’… বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘তালনবমী’ গল্পে কোন গাঁয়ের কথা লিখেছিলেন জানি না। তবে সব গাঁয়েই বোধ হয় এরকম একটা-দুটো তালদিঘি থাকে। গ্রামের ছেলেরা সেই তালদিঘি থেকে তাল কুড়িয়ে আনে। কচিকাঁচারা কেয়াপাতার নৌকো গড়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেয়।
আমাদের গ্রামেও তো ছিল। তখনও গ্রামের রাস্তা ঢালাই হয়নি। কাঁচামাটির পথ। বুনিয়াদপুর থেকে পাকা রাস্তা ধরে সোজা দক্ষিণে গিয়ে রেললাইন পেরোলেই যানজটের কোলাহল কমে আসে অনেকটা। কিছুদূর গিয়ে পাকা রাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে চলে গিয়েছে যে আঁকাবাঁকা কাঁচামাটির পথ, সেই পথ ধরে এগোলেই আমাদের গ্রাম, থিঙ্গুর। ঢোকার মুখেই পথের ডানদিকে একটি বিশাল দিঘি আর তাকে ঘিরে রয়েছে প্রচুর তালগাছ। দূর থেকে যেন মনে হয় ‘ঐ দেখা যায় তালগাছ, ঐ আমাদের গাঁ।’
তালদিঘি নাম কে দিয়েছিল জানি না, তবে লোকমুখে সেই দিঘি তালদিঘি নামেই পরিচিত ছিল। সবাই এক ডাকে চিনত। আর সেই তালদিঘি, তাল গাছ ঘিরে আমাদের শৈশব, আমাদের বেড়ে ওঠা, আমাদের কত স্মৃতি।
শ্রাবণ শেষ হয়ে এলেই ‘বাদল-ধারা হল সারা’। তারপরেই ভাদ্র মাস। আর ভাদ্র মাস মানেই প্যাঁচপেঁচে গরম। লোকে বলত তালপাকা গরম। তালগাছগুলি দিঘির ধারে ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ আর গাছে ঝুলে থাকত রাশি রাশি তাল। সবে পাকতে শুরু করেছে। গ্রামের বয়স্ক মানুষরা দেখেই চিনতে পারত কোন তাল কতটা পেকেছে, কোন গাছের তালগুলি আগে পড়বে। আর সেইমতো আমাদের অপেক্ষা করা।
তখন গ্রামে ইলেক্ট্রিসিটি এসে পৌঁছালেও হাতেগোনা দু-একটি বাড়ি ছাড়া আর কোনও বাড়িতে ইলেক্ট্রিসিটি ছিল না। ভাদ্রের সেই তালপাকা গরমে একমাত্র ভরসা ছিল তালপাতার পাখা। যতীন দাদু তাল গাছগুলি থেকে তালপাতা কেটে এনে ভালোভাবে শুকিয়ে পাখা তৈরি করত। আর দিদা সেই পাখাগুলির ওপর রং দিয়ে বিভিন্ন নকশা বানাত। ওই বয়সেও কী নিখুঁত হাতের কাজ! বাজারে ভীষণ চাহিদা ছিল তালপাতার এই পাখাগুলির। গ্রামের সবার বাড়িতেই সেই পাখাগুলি ছিল। ঠান্ডা বাতাস দিত। মাঝে মাঝে মা পাখার গায়ে জল ছিটিয়ে দিত, তাতে মনে হত পাখার বাতাস যেন আরও ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। রাতে পাখার বাতাস দিয়ে ঘুম পাড়াত মা।
তালদিঘির চারিদিকে ছিল সারি সারি তালের গাছ। আর তাদের মাঝখানে অভিভাবক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এক বট গাছ। বেলা গড়িয়ে এলে তালপাতার পাখায় হাওয়া খেতে খেতে গ্রামের সবাই জড়ো হত সেই বট গাছের নীচে। ছায়া সুবিনিড়। তারপর সন্ধে পর্যন্ত চলত আড্ডা। আমরা ছোটরা খেলতাম। অবাক হয়ে দেখতাম তাল গাছে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসাগুলির দিকে। বাবুই পাখিরা এই গাছ থেকে ওই গাছে ঘোরাঘুরি করত। তালদিঘিকে ঘিরে থাকা তাল গাছগুলির ছায়া পড়ত দিঘির টলটলে জলে। তার ওপরে বটের ছায়া পড়ে আবছায়া তৈরি করত।
একটি পাকা বাড়ি ছাড়া গ্রামে আর কোনও পাকা বাড়ি ছিল না তখন। তবে দোতলা বাড়ি ছিল প্রচুর। মাটির দোতলা। আর সেই দোতলা বাড়িগুলির ওপরতলার ভার ধরে রাখত তালসাঁড়া। দোতলার ওপরে টিনের চাল থাকত যে কাঠামোর ওপর, সেটিও তৈরি করা হত তালসাঁড়া দিয়ে। তালগাছগুলি লম্বালম্বি কেটে ফেলে রাখা হত। সেগুলিকে কয়েক মাস ধরে রোদজল খাইয়ে টেকসই করা হত। আরও শক্ত হয়ে উঠত সেগুলি। তারপর ভালো করে আলকাতরা মাখিয়ে সেগুলি দিয়ে বাড়ির একতলার ছাদের মূল কাঠামো তৈরি করা হত। তার ওপর চাটাই দিয়ে পলিথিন বিছিয়ে মাটি লেপে তৈরি করা হত দোতলার মেঝে। দোতলার সম্পূর্ণ ভার ধরে রাখত এই তালসাঁড়াগুলি। গ্রামের একটি বাড়ি তো প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরোনো ছিল। অর্ধশতাব্দীর ভার নিয়ে টিকে ছিল সেই তালসাঁড়াগুলি।
আর তাল গাছের গুঁড়িগুলি পুকুরের ঘাটে ফেলে ধাপে ধাপে সাজিয়ে বানানো হত সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি দিয়ে নেমে মা-কাকিমারা বাসন মাজত, আমরা স্নান করতে নামতাম।
ভাদ্র মাসের কিছুদিন গেলেই তাল পাকা শুরু হয়ে যেত। চারিদিকে তখন তালের রমরমা। অবশ্য তার অনেক আগে থেকেই বাড়িতে তালের আনাগোনা শুরু হয়ে যেত। গরমের সময় দুপুরবেলা গোপালকাকু গাছ থেকে পেড়ে আনত কচি তাল। তারপর সেগুলিকে কেটে তার ভেতর থেকে বের করা হত নরম কচি তালশাঁস। ঠান্ডা, স্বচ্ছ জেলির মতো। তখন এই তালশাঁসগুলিই ছিল আইসক্রিমের বিকল্প। সারাবছর অপেক্ষা করে থাকতাম তালশাঁস খাওয়ার জন্য।
আমাদের যেমন তালশাঁস ছিল, তেমনি হারু জ্যাঠার ছিল তালের রস, মানে তাড়ি। মাঝে মাঝেই তালের রস পেড়ে আনত জ্যাঠা। তারপর তা খেয়ে ঢুলুঢুলু চোখে টলোমলো পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরত। এই নিয়ে জেঠির সঙ্গে কত ঝামেলা!
তাল পাকা শুরু হয়ে গেলেই সকাল-বিকেল তালদিঘিতে তাল কুড়োনোর ভিড় লেগে থাকত। ঝুপঝাপ করে তাল পড়ত তালদিঘির জলে। বড় কালো তাল। তারপর দিঘির জলে নেমে সেই তালগুলি কুড়িয়ে আনা হত। প্রতিদিন সকালবেলা দিঘির জলে ভেসে থাকত অগুনতি তাল। আমাদের, গ্রামের ছেলেদের মধ্যে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ছিল যে কে কত ভোরে উঠে তালগুলি কুড়িয়ে আনতে পারবে। কেউ কেউ তাল কুড়িয়ে এনে বিক্রিও করত।
কখনো-কখনো ভাদ্রের তীব্র তাপপ্রবাহের পর অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামত। সঙ্গে ঝড়। ‘ভরা বাদর মাহ ভাদর’। তখন আমরা সবাই ছুটে তালদিঘির ধারে চলে যেতাম। তাল হাতে নিয়ে বাড়িতে ফিরলে বৃষ্টিতে ভেজার বকুনিও মাফ হয়ে যেত।
তারপর সেই তালগুলি দিয়ে তৈরি হত কতরকমের পদ। তালগুলির খোসা ছাড়িয়ে আঁটি বের করে, সেগুলিকে লোহার সিঁড়িতে ঘষে ঘষে রস বের করত মা। তারপর সেই ঘন রসটুকু দিয়ে তৈরি করা হত তালের বড়া। কোনওদিন তালক্ষীর, কোনওদিন তালের পায়েস, কোনওদিন তালের রুটি। আবার কোনও কোনওদিন শুধু রসটুকু আগুনে ফুটিয়ে তা দিয়ে মুড়ি মেখে খাওয়া হত। তাল থেকেই তৈরি প্রতিটি পদ, অথচ স্বাদ ছিল আলাদা।
অবশিষ্ট সেই তালের আঁটিগুলিকে মাটিতে ফেলে রাখা হত। কয়েক মাস রাখার পর তার ভেতরে তৈরি হত সাদা শাঁস। সেই তাল ফোপরাগুলি ছাড়া লক্ষ্মীপুজোর নৈবেদ্য ছিল অসম্পূর্ণ।
এভাবেই কেটেছে আমাদের ছেলেবেলা। তারপর কত বছর কেটে গেল, কত ভাদ্র এল-গেল। আমরাও বড় হয়ে উঠলাম। গ্রামের কত মানুষ হারিয়ে গেল। আর হারিয়ে গেল সেই তাল গাছগুলি।
গ্রামের রাস্তা ঢালাই করার সময় কাটা পড়েছিল বেশ কিছু তাল গাছ। তার কয়েক বছর পর গ্রামের লোকেরা মিলে তালদিঘিকে লিজ দিয়েছিল মাছ চাষ করার জন্য। তখন কাটা পড়ে আরও কিছু গাছ। গ্রামের পেছনের মাঠেও যে কয়েকটি তাল গাছ ছিল, পাশের গ্রামে ইলেক্ট্রিসিটির তার নিয়ে যাওয়ার সময় কাটা পড়ে সেগুলিও। তালদিঘির ধারে এখন হাতেগোনা কয়েকটিই মাত্র তাল গাছ।
এখন ভাদ্র মাসে আর আগের মতো তাল পড়ে থাকে না তালদিঘিতে। বাজার থেকে জন্মাষ্টমীর দিন তাল কিনে এনে তালের বড়া খাওয়া হয়। সারাবছরে ওই একদিনই। তাল এখন শুধুই বাজারের পণ্য হয়ে উঠেছে। তাল কুড়োনোর সেই দিনগুলি আর নেই।
তালগাছের নীচে কাটানো সেই সময়গুলো কত তাড়াতাড়ি হারিয়ে গেল। আর তার সঙ্গে হারিয়ে গেল তালপাতার পাখা, বাবুই পাখির বাসা, কত স্মৃতি, কত গ্রামীণ সংস্কৃতি।
আমাদের চোখের সামনেই তো সব বদলে গেল, তাও আমরা কিছুই করতে পারলাম না? হয়তো আমরা সবাই এক একজন মহান তালেবর হয়ে উঠেছি যে এইসব তুচ্ছ বিষয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করিনি, কিংবা এতটাই তালকানা হয়ে গিয়েছি যে এইসব আমাদের চোখেই পড়েনি।
শুধু নিষেধের কাল নয়, এক প্রবহমান স্মৃতির অ্যালবাম
রুবাইয়া জুঁই
আকাশে কখনও ঝকঝকে রোদ, কখনও সাদা মেঘের আস্ফালন। হঠাৎ আঁধারে ছেয়ে যাওয়া চারদিক। তারপর ঝমঝম করে বৃষ্টি। বাংলার ভাদ্র মাসের চিত্র খানিকটা এইরকমই। বাঙালির জীবনে প্রত্যেকটি মাসের আলাদা অভিঘাত আছে। আছে ভাদ্রেরও। উত্তরবঙ্গের ভাদ্র বড় বৈচিত্র্যময়। আমার যেমন ভাদ্র এলেই মায়ের কথা মনে পড়ে। মা বলেন, ভাদ্র মাসে মানকচুর তরকারি খেতেই হয়। কেন? তার কোনও ব্যাখ্যা তাঁর জবানিতে নেই। কোনও পঞ্জিকার পাতা খুলে দেখান না, কোনও শাস্ত্রের কথাও বলেন না। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই নিয়মই চলে আসছে। এক পড়শি দিদা বলতেন, ভাদ্র মাসে ধান ঝাড়ার বাঁশের কুলোয় তরকারি রেখে কাটা যাবে না। অন্য সময়ে কুলোয় তরকারি রাখা বা কাটার প্রয়োজন হলে আপত্তি নেই; কিন্তু ভাদ্রে নয়। হয়তো লোকসংস্কৃতির সবচেয়ে আশ্চর্য জায়গাটি এখানেই। কারণ হারিয়ে যায়, আচরণ থেকে যায়।
আমি অনেক বড় হওয়া অবধি মানকচু কেন খেতে হয় ভাদ্রে তার কারণ খুঁজে গিয়েছি। বিজ্ঞান বলছে, ভাদ্র মাসে আর্দ্র ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় হজমশক্তি ঠিক রাখতে, পেটের রোগ এড়াতে এবং ঋতু পরিবর্তনের ফলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে মানকচুর উপকারিতা অনেক। ফাইবার ও খনিজে সমৃদ্ধ মানকচু নামক মরশুমি খাদ্যটির তুলনা নেই। লোকসংস্কৃতিকে শুধুমাত্র কুসংস্কার হিসাবে দেখা যে বোকামো তা একটু বড় হতেই পরিষ্কার হয়েছে।
অন্যদিকে কোচবিহারের রাজবংশী সমাজের একটা বড় অংশের লোকবিশ্বাসে ভাদ্র মাশান ঠাকুরের মাস। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের এক শনিবার মাশান ঠাকুরের জন্ম। তাঁর জন্মের কাহিনীর বিস্তার জলজুড়ে। সেই কাহিনীতে তাঁর নাড়িকুণ্ডলী জলে ফেলে দেওয়ার পর কলমি শাকের জন্ম। এই লোকবিশ্বাস থেকেই বহু রাজবংশীরা ভাদ্র মাসে কলমি শাক খান না। এ প্রসঙ্গে প্রচলিত একটি ছড়ার বিশেষভাবে অবতারণা করা যায়—‘ভাদর মাসে কলমু শাকে যে বা জন খায়।/ মাসানের নাড়ি সে অবশ্য চবায়।’
উত্তরবঙ্গে ভাদ্রের অনেক রূপ। এক বাড়িতে যা বারণ, আবার অন্য বাড়িতে তা-ই হয়তো স্বাভাবিক। কোথাও ভাদ্রে বিয়ের কথা উঠলে আপত্তি, কোথাও কোনও খাবার নিয়ে বিধি, কোথাও আবার এই মাসেই কোনও লোকদেবতা বা কৃষিজীবনের উৎসব। স্থানভেদে একই সমাজের লোকবিশ্বাসও কিছুটা আলাদা আলাদা। একটি গ্রামের বিশ্বাস আরেক গ্রামের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলতেই পারে, আবার না-ও মিলতে পারে। এটাই তো লোকসংস্কৃতির মাধুর্য।
মাশান ঠাকুরের কাহিনীর ভিতর দিয়ে অবশ্য একটি অন্য দরজাও খোলে। একটি সাধারণ শাক কীভাবে একটি লোকদেবতার জন্মকথার সঙ্গে জুড়ে গেল? কীভাবে খাদ্য হয়ে উঠল স্মৃতির বাহক? মানুষ যখন কোনও বস্তু, গাছ, জল বা খাবারের সঙ্গে কাহিনীর সংযোগ তৈরি করে, তখন সেই কাহিনীই একদিন নিয়ম হয়ে উঠতে পারে। পরের প্রজন্ম হয়তো সবটা জানে না, কিন্তু নিয়মটি জানে।
নস্য শেখ সমাজ নিয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, তাঁদের একটি অংশ ঐতিহাসিকভাবে রাজবংশী সাংস্কৃতিক রীতির নানা চিহ্ন ধরে রেখেছে এবং বিয়ের ক্ষেত্রে ভাদ্র-সহ কিছু মাস এড়িয়ে চলে। এই তথ্যটি উত্তরবঙ্গের সমাজের একটি সূক্ষ্ম সত্যকেও তুলে ধরে। ধর্মীয় পরিচয় মানুষের জীবনের একটি বড় পরিচয়, কিন্তু দৈনন্দিন সংস্কৃতি তার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘজীবী হতে পারে। একই ভৌগোলিক অবস্থানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাশাপাশি বসবাস করলে খাবার, গান, কৃষি, ভাষা, উৎসব কিংবা বিবাহের আচারে একে অন্যের ছাপ যে পড়বেই তা বলা বাহুল্য।
তবে ভাদ্রকে শুধু নিষেধের মাস ভাবলে উত্তরবঙ্গের আরেকটি মুখ আড়াল হয়ে যায়। ডুয়ার্স-তরাইয়ের আদিবাসী সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অন্যতম উৎসব ‘করম’ এ মাসেই হয়। ওরাওঁ সমাজে করম গাছকে কৃষিকাজ ও ফসলের সঙ্গে যুক্ত পবিত্র প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ একই ভাদ্র কারও কাছে বিয়ের জন্য অনুপযুক্ত সময়, কারও কাছে কোনও খাদ্য না খাওয়ার সময়, আবার কারও কাছে গাছকে ঘিরে উৎসবের সময়। এই বৈপরীত্যই হয়তো ভাদ্রের আসল চরিত্র। লোকবিশ্বাস কখনোই শুধু ধর্মের ভাষায় তৈরি হয় না। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মাটি, জল, ফসল, রোগের ভয়, ঋতুর পরিবর্তন, সংসারের শ্রম, খাদ্যাভ্যাস এবং মানুষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
কোনও নির্দিষ্ট নিষেধের পিছনে ঠিক কোন কারণ কাজ করেছে, তা গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া বলা যায় না। আজ আমরা যে ব্যাখ্যাটি সুবিধাজনক মনে করি, সেটিই যে তার জন্মের কারণ ছিল এমন না-ও হতে পারে। তবে এই লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন আচারেই পরিবারের অদৃশ্য ইতিহাস টিকে থাকে।
লোকসংস্কৃতির ইতিহাস বেশিরভাগ সময়েই বেঁচে থাকে মা-ঠাকুমাদের মুখে, রান্নাঘরের নিয়মে, বিয়ের দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে। ভাদ্রে রাজবংশী সমাজে মাশান, আদিবাসী সমাজের করম উৎসব, আবার কারও বিয়েতে নিষেধ— এইসব রীতির কোনওটিকেই এক সুতোয় বাঁধা যায় না। কিন্তু তাদের দিকে পাশাপাশি তাকালে একটি জিনিস স্পষ্ট হয়— ভাদ্র শুধু একটি মাস নয়, বহুপ্রাচীন স্মৃতির অ্যালবাম। যে সমাজের লিখিত ইতিহাসে অনেক কথা নেই, তার কিছু কথা থেকে যায় লোকবিশ্বাসে।
নিষেধের ভিতরে ভয় থাকতে পারে, বিশ্বাস থাকতে পারে, অভ্যাস থাকতে পারে; কিন্তু তার গভীরে প্রায়ই থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহ। শহুরে জীবনে, নাগরিক চিন্তায় এসব হয়তো কুসংস্কার। কিন্তু একথা তো স্পষ্ট প্রতিটি নিষেধে বা আচারে শুধুই ধর্মীয় বিশ্বাস নেই, এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে পুরোনো কৃষিজীবন, আবহাওয়া, খাদ্যসংকট, রোগের প্রকোপ, গ্রামীণ অর্থনীতি আরও নানা বাস্তবিকতা।
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী, কামতাপুরি, আদিবাসী, বাঙালি সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ভাদ্র আলাদা রঙের, আলাদা স্মৃতিগন্ধের। লোকবিশ্বাস, দেশজ আচার-সংস্কার নিয়ে উত্তরের ভাদ্র মাস পারতপক্ষে হয়ে ওঠে এক প্রবহমান স্মৃতির নদী। যা যুগের পর যুগ, শতাব্দী পেরিয়ে নিজের স্বকীয়তায় বেঁচে আছে বহালতবিয়তে।

