Nazirabad Hearth | আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, এখনও নিখোঁজ ২০  

Nazirabad Hearth | আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, এখনও নিখোঁজ ২০  

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: “আর বাঁচব না…”—ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা পঙ্কজ হালদারের এই আর্তনাদই সম্ভবত ছিল শেষ বার্তা। আনন্দপুরের অদূরে নাজিরাবাদের দুটি বিশালাকার গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড (Nazirabad Hearth) শুধুমাত্র সম্পত্তির ক্ষতি করেনি, বরং জন্ম দিয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭টি অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনের উত্তাপ এতটাই তীব্র ছিল যে, দেহগুলি সম্পূর্ণ ঝলসে যাওয়ায় এখনও পর্যন্ত তাঁদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সোনারপুর উত্তর বিধানসভা ও নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত এই এলাকায় গত ১১ ঘণ্টা ধরে যেন নরককুণ্ড তৈরি হয়েছে। গুদামের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ, নরম পানীয় এবং খাদ্যসামগ্রী মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামানো হয়েছে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য আনা হয়েছে জেসিবি মেশিন। আগুনের তীব্রতায় পাশের মেস ও বসতবাড়িগুলিও তড়িঘড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো নিখোঁজ ২০ জন কর্মী। স্থানীয় ও নিখোঁজদের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় তাঁরা ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন। থানায় ২০ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে গুদামের পেছন দিক থেকে দুটি চেন দেওয়া ব্যাগ বের করে আনা হয়, যাতে একাধিক দেহাংশ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম। প্রশাসনের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দেহগুলি এতটাই বিকৃত যে ডিএনএ টেস্ট ছাড়া সনাক্তকরণ কঠিন হতে পারে। সরকারিভাবে মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।” আগুন এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে নাজিরাবাদের বাতাস। ধ্বংসস্তূপ সরলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, সেই আতঙ্কেই এখন প্রহর গুনছে নিখোঁজদের পরিবার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *