বেআইনি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশমতো সশরীরে হাজির হয়ে রিপোর্ট দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক। এবিষয়ে রাজ্যকে লাগাতার নজরদারি করতে নির্দেশ আদালতের ৷ ভিআইপি রোডের দু’ধারে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ বা সরাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আদালতে হাজিরা দিলেন জেলাশাসক। কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চের বক্তব্য, “রিপোর্ট দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ফের দখলদাররা পুরনো জায়গায় যেন ফিরে না আসে, জেলাশাসককে তা দেখতে হবে।”
উল্টোডাঙা পর্যন্ত ভিআইপি রোডের দু’ধারে বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ চেয়ে অর্ধেন্দু নাগ নামে এক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন ৷ সেই মামলায় এর আগে একাধিকবার রিপোর্ট তলব করেছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ৷ গত ১০ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক নিজে না এসে রিপোর্ট পাঠান। তাতে ক্ষোভপ্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। এরপর ২৩ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে সশরীরে এসে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ মেনে এদিন জেলাশাসক আদালতে রিপোর্ট দিতে আসেন।
আরও পড়ুন:
মামলাকারীর আইনজীবী উচ্ছেদ না হওয়া নিয়ে নিজের বক্তব্যে অনড়। তাঁর দাবি, “কেষ্টপুর থেকে দমদম পার্কের মধ্যে বাঁদিকে সেচ দপ্তরের জায়গা দখল করে বসতি তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার বাংলাদেশি সেখানে বেআইনিভাবে বসবাস করছে। লেকটাউনে রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং চলছে অবাধে।” তিনি আরও বলেন, “বাস্তবে কোনও দখলদারকেই সরানো হয়নি।” সে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, “২৪টি নির্মাণের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০টি সরানো হয়েছে। বাকিগুলো সরানোর প্রক্রিয়া চলছে।” ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা দেখি সরানোর এক সপ্তাহের মধ্যে আবার সেগুলো পুরনো জায়গায় চলে আসে। রিপোর্ট দিয়ে জেলাশাসক দখল উচ্ছেদের কথা বলেছেন। ফলে আগামিদিনে উচ্ছেদের রিপোর্ট দেওয়ার পরই মামলাকারী লিখিতভাবে তাঁর আপত্তির কথা জানাতে পারবেন।”
এই প্রসঙ্গে রাজ্যকে ডিভিশন বেঞ্চের সতর্কতা, “দখল উচ্ছেদ বলে রিপোর্ট দেওয়া হল। আর ৭-১০দিন পর ফের বেআইনি নির্মাণ হলে আদালত তা বরদাস্ত করব না।” রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এখন আর সেসব হবে না। এটা কোনও রাজনৈতিক আশ্বাস নয়। আমরা নতুন করে কাউকে বসতে দেব না।” যদিও ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, “প্রাথমিকভাবে মামলাকারীর জয় হয়েছে। কারণ এতদিন ধরে যে স্থিতাবস্থা তৈরি হয়েছিল তার চেষ্টায় সেটা নড়েছে।” আগামী ১৮ আগস্ট ফের মামলার শুনানি। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ওইদিন রিপোর্ট নিয়ে হাজির হতে হবে আদালতে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
