বাসন্তী স্কোয়াশ ভোগ
শ্রেয়সী সরকার
(কবি, কোচবিহারের বাসিন্দা)
বর্ষা এলেই উত্তরবঙ্গের হাটবাজার যেন সবজির রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। যদিও স্কোয়াশ এখন প্রায় সারা বছরই মেলে, তবুও বর্ষার টাটকা স্কোয়াশের স্বাদই আলাদা। বাড়িতে আনা সবজির মধ্যে ছোটবেলায় বেশিরভাগ সবজিই খেতে চাইতাম না। তখন দিদিমাদের ছিল এক আশ্চর্য বুদ্ধি। সাধারণ সবজিও এমনভাবে রান্না করতেন যে খাওয়ার সময় বুঝতেই পারতাম না কখন থালা পরিষ্কার হয়ে গেছে। একদিন দিদা বললেন, আজ হবে ‘বাসন্তী স্কোয়াশ ভোগ’। নাম শুনেই মনে হত, যেন পুজোর খিচুড়ির মতো বিশেষ কোনও পদ। সকালে গরম গরম সেই ভোগ খেয়ে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ এখনও মনে পড়ে।
ছোটদের মধ্যেও অনেকেরই শাকসবজি পছন্দ নয়। সময়ের অভাবে অভিভাবকরাও তাই ফাস্ট ফুডের ওপরই অনেকটা নির্ভর করেন। অথচ রয়েছে এমন অনেক পুরোনো রেসিপি, যা অল্প সময়ে কম খরচে তৈরি হয় এবং শিশু থেকে প্রবীণ- সকলের কাছেই সমান উপাদেয়। বাসন্তী স্কোয়াশ ভোগ তেমনই এক পদ, যেখানে সাধারণ স্কোয়াশ ও মশলার ছোঁয়ায় মেলে উৎসবের স্বাদ।
উপকরণ : স্কোয়াশ (কুচি করে কাটা ও হালকা সেদ্ধ), এক কাপ গোবিন্দভোগ চাল, একটি ছোট আলু (ছোট করে কাটা), তিন চামচ সর্ষের তেল বা সাদা তেল, এক চামচ ঘি, তেজপাতা, গোটা জিরে, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, শুকনো লংকা, এক চামচ জিরে-ধনে বাটা, এক চামচ আদা বাটা, কাঁচালংকা ও লাল লংকাবাটা স্বাদমতো, দুই চামচ মগজ বাটা, নুন, হলুদ ও চিনি পরিমাণমতো, কাজুবাদাম, কিশমিশ, সামান্য গরমমশলা ও এলাচ গুঁড়ো। সাজানোর জন্য চেরি ও গোটা কাঁচালংকা।
প্রণালী : কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে তেজপাতা, গোটা জিরে, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ ও শুকনো লংকার ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বেরোলে স্কোয়াশ ও আলু দিয়ে নুন, হলুদ এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। এরপর ধোয়া গোবিন্দভোগ চাল, জিরে-ধনে বাটা, আদা বাটা এবং লংকা বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। তারপর মগজ বাটা, ঘিয়ে ভেজে রাখা কাজু ও কিশমিশ মিশিয়ে পরিমাণমতো গরম জল দিন। ঢেকে অল্প আঁচে চাল সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। শেষে গরমমশলা গুঁড়ো, এলাচ গুঁড়ো ও এক চামচ ঘি ছড়িয়ে পাঁচ মিনিট দমে রেখে দিন। এরপর চেরি, কাজু, কিশমিশ ও একটি গোটা কাঁচালংকা দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
The submit ঠাকুমার পাকঘর appeared first on Uttarbanga Sambad.
