Zubeen Garg loss of life | অসমে খুনের মামলা, সিঙ্গাপুরে ‘দুর্ঘটনা’! জুবিন গার্গের মৃত্যু তদন্তে দুই মেরুতে পুলিশ

Zubeen Garg loss of life | অসমে খুনের মামলা, সিঙ্গাপুরে ‘দুর্ঘটনা’! জুবিন গার্গের মৃত্যু তদন্তে দুই মেরুতে পুলিশ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের (Zubeen Garg) মৃত্যু নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? এই প্রশ্নে যখন তোলপাড় অসম, ঠিক তখনই সিঙ্গাপুরের আদালত (Coroner’s Court docket) এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল। আদালতের শুনানিতে জানানো হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ইয়াট পার্টি চলাকালীন জুবিন লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকার করেছিলেন এবং সাঁতার কাটার সময় তিনি অত্যধিক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

কী বললেন তদন্তকারী অফিসার?

বুধবার সিঙ্গাপুরের আদালতে তদন্তকারী অফিসার জানান, ৫২ বছর বয়সী এই গায়ক প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরেছিলেন, কিন্তু পরে তা খুলে ফেলেন। দ্বিতীয়বার তাঁকে একটি ছোট লাইফ জ্যাকেট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং লাজারাস দ্বীপের দিকে একাই সাঁতার কাটতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরেই প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেন, জলে ভাসছে গায়কের নিথর দেহ।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কি বলছে?

ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা গেছে, জুবিনের রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৩৩৩ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া গেছে, যা ‘গুরুতর নেশা’র (Extreme Intoxication) ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে শরীরের ভারসাম্য ও রিফ্লেক্স কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। ইয়াট চালক বা ক্যাপ্টেন আদালতকে জানান, জুবিন এতটাই মদ্যপ ছিলেন যে ইয়াটে ওঠার সময় বন্ধুদের কাঁধে ভর দিয়ে উঠতে হয়েছিল। ক্যাপ্টেন আরও দাবি করেন, জুবিনকে জলে নামতে দেখে তিনি সতর্ক করেছিলেন।

অসুস্থতা ও ওষুধের ধোঁয়াশা:

আদালতে জানানো হয়, জুবিনের উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এবং মৃগী রোগের (Epilepsy) ইতিহাস ছিল। ২০২৪ সালেই তাঁর শেষবার মৃগী রোগ বা এপিলেপসির অ্যাটাক হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন তিনি নিয়মিত ওষুধ খেয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। যদিও রক্তে ওষুধের উপস্থিতি মিলেছে। ময়নাতদন্তকারী প্যাথলজিস্ট জানান, জলে ডোবার সময় তাঁর মৃগীর চটকা (Seizure) এসেছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কারণ জিভ কেটে যাওয়ার মতো কোনো লক্ষণ ছিল না।

 ভিন্ন পথে অসম ও সিঙ্গাপুর পুলিশ:

সিঙ্গাপুর পুলিশের তদন্তকারী অফিসার স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুবিনের মৃত্যুতে (Zubeen Garg loss of life) তাঁরা কোনো অপরাধমূলক বা ফৌজদারি অপরাধ (Felony Offence) খুঁজে পাননি। এটি জলে ডুবে মৃত্যু বলেই তাঁদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, তা উদ্ধারের সময় সিপিআর (CPR) দেওয়ার ফলে হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অসম পুলিশের সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই ঘটনাকে ‘খুন’ হিসেবেই দেখছে। রাজ্যজুড়ে ৬০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ফেস্টিভ্যাল অর্গানাইজার শ্যামকানু মহন্ত, গায়কের সেক্রেটারি সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ব্যান্ডের দুই সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্ত। এছাড়াও গায়কের খুড়তুতো ভাই তথা সাসপেন্ডেড পুলিশ অফিসার সন্দীপন গার্গের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের (Culpable Murder) অভিযোগ আনা হয়েছে। সিঙ্গাপুর আদালতের এই নতুন তথ্যের পর অসম পুলিশের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *