সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, ফিলাডেলফিয়া: মুখে অ্যাসিড ছোড়ার পর কত শত মেয়ের যে জীবন চিরতরে অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছে, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। সেখান থেকে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধ জেতার গল্প বলতে গেলে লক্ষ্মী আগরওয়ালের নামটাই সবার আগে মনে আসে। কিন্তু এই তালিকায় কোনও পুরুষের নাম? সেভাবে হয়তো শোনা যায় না। তবে এই বিশ্বকাপের পর, নিদারুণ কোনও বিপদের দিনে ইয়োনে উইসার (Yoane Wissa Congo Aim) নামটা নিশ্চিতভাবেই রূপকথার অনুপ্রেরণা হয়ে মানুষের মনের কোণে ভেসে উঠবে।
দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরেছে কঙ্গো। আর সেই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে রুখে দিয়ে দেশের হয়ে প্রথম গোলদাতা হিসেবে রেকর্ড গড়লেন সেই উইসা! নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা ২৯ বছরের এই স্ট্রাইকার এখন আফ্রিকার অন্যতম হাই প্রোফাইল ফুটবলার। বিশ্বকাপ মানেই তো বিশ্বজুড়ে লিওনেল মেসি আর রোনাল্ডো ভক্তদের সেই চিরন্তন বিভাজন। আর তাই রোনাল্ডোর দলকে আটকে দেওয়ায় অলিখিতভাবেই উইসা এখন বিশ্বজুড়ে মেসি ভক্তদেরও নয়নের মণি।
অথচ মাত্র পাঁচ বছর আগে পরিস্থিতিটা এমন ছিল না। ২০২১ সালের ১ জুলাই। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দরজা খুলতেই এক মহিলা তাঁর মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে, উদ্দেশ্য ছিল উইসার শিশুকন্যাকে অপহরণ করা। দৃষ্টিশক্তি বাঁচানোর জন্য বিশেষ অস্ত্রোপচার, ছয় মাসের যন্ত্রণাদায়ক পুনর্বাসন আর নিজের মুখকে লোকসমাজে ফিরিয়ে আনার লড়াই- সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা। ফরাসি ক্লাব লোরিয়েন্তের তৎকালীন ম্যানেজার ক্রিস্টোফ পেলিসার বলছিলেন, ‘উইসার মানসিক শক্তি আমাকে অবাক করেছিল। ওরকম একটা ঘটনার পর জীবনের প্রতি কোনও অভিযোগ ছিল না, শুধু সামনের দিকে তাকানোর কথা বলত।’ সেই হার না মানা জেদই আজ উইসাকে বিশ্বমঞ্চের নায়ক বানিয়েছে।

