উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের আবহে ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল চিন (India-China Relations)। ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Narendra Modi) উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সোমবার পাঠানো এক বার্তায় তিনি প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচের’ (Dragon and Elephant dancing collectively) ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
জিনপিং তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং উন্নয়ন ও সহযোগিতার সঙ্গী। তাঁর মতে, দুই দেশের সুসম্পর্ক শুধু এশিয়ার জন্য নয়, বরং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। চিনা রাষ্ট্রদূতের গলাতেও শোনা গিয়েছে একই সুর। তিনি জানিয়েছেন, একে অপরকে সাহায্য করাই হবে বর্তমান সময়ের সঠিক পদক্ষেপ।
২০২০ সালের লাদাখ সংঘর্ষের পর থেকে ভারত ও চিন সম্পর্কের যে শৈত্য তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজান এবং ২০২৫ সালে তিয়ানজিন সম্মেলনের পর তাতে বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) সামরিক অচলাবস্থা কাটানো এবং টহলদারি নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে এই ইতিবাচক বার্তা এল বেজিংয়ের পক্ষ থেকে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। চিনা নাগরিকদের জন্য ভারত পুনরায় টুরিস্ট ভিসা চালু করেছে। এছাড়া অক্টোবর মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিখ্যাত কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা পুনরায় চালু করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির চাপে পড়ে যখন বিশ্ব বাণিজ্য অস্থির, তখন চিনের এই ‘বন্ধুত্বের বার্তা’ ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
