উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতির গ্ল্যামার সরিয়ে রেখে ঘরের মেয়ের মতোই সাধারণের ভিড়ে মিশে গেলেন রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rujira Banerjee)। মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) ‘সেবাশ্রয়’ (Sebaashray) শিবিরে যখন তিনি এসে পৌঁছলেন, তখন তাঁর পরনে ছিল স্নিগ্ধ সাধারণ সাজ। কোনো আড়ম্বর নয়, বরং শিবিরের প্রতিটি কোণে ঘুরে দেখে এবং অসুস্থদের কপালে ভরসার হাত রেখে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, মানুষের সেবাই তাঁদের পরিবারের প্রথম অঙ্গীকার। রুজিরার এই অনাড়ম্বর উপস্থিতি ডায়মন্ড হারবারের মানুষের মনে এক বিশেষ আবেগ তৈরি করেছে।

রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দোতলা জুড়েই ঘুরে দেখলেন, রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বললেন এবং নিজেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন। তাঁর এই অনাড়ম্বর উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই পদক্ষেপে রুজিরা নিজেকে সাধারণ মানুষের কাছের মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেন, যা ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার ইঙ্গিতও হতে পারে।

ডায়মন্ড হারবারের এই ‘সেবাশ্রয়’ শিবির ইতিমধ্যেই নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। এসডিও মাঠে তৈরি দোতলা শিবিরটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ আইসিইউ পরিকাঠামো, যা আগে কোনো শিবিরে দেখা যায়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন জন রোগী এই আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রথম পর্বের শিবিরের বেসরকারি হাসপাতালের সমতুল্য ব্যবস্থাকে ছাপিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এখানে। বিশেষ ভাবে সক্ষম বহু মানুষকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে ট্রাইসাইকেলও তুলে দেওয়া হয়েছে।
‘সেবাশ্রয়’-এর পরিসর ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও পৌঁছেছে। নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নম্বর ব্লকে মডেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই, যেখানে নন্দীগ্রামের শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে শিবিরের বিপুল ব্যয়ের উৎস নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন তুললে অভিষেক স্পষ্ট জানান, আদালত বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হিসাব চাইলে তিনি দিতে প্রস্তুত, তবে বিরোধী দলনেতা সেই অধিকার রাখেন না।
সার্বিক ভাবে বলা যায়, ডায়মন্ড হারবারের এই ‘সেবাশ্রয়’ শিবির শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
