উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : হাদি হত্যাকাণ্ডের (Hadi Homicide Case) তদন্ত ঘিরে গত কয়েক ঘণ্টা ধরে যে চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ‘গুজব’ বলেই প্রমাণিত হলো। মূল অভিযুক্তের দুই শাগরেদকে মেঘালয় সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— বাংলাদেশ (Bangladesh) প্রশাসনের তরফে এমন দাবি জোরালোভাবে তোলা হলেও, শেষমেশ সেই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল মেঘালয় পুলিশ (Meghalaya Police) ও বিএসএফ (Hadi Homicide Case Replace)।
রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এনএন মহম্মদ নজরুল ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সে দেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার দাবি করে, ‘‘আমাদের কাছে যা খবর, তা থেকে জানা গিয়েছে যে, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজনেরা মেঘালয়ে পালিয়েছেন। সীমান্ত পেরোনোর পর প্রাথমিক ভাবে ওই সন্দেহভাজনেরা পূর্তি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন। তার পর সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক সন্দেহভাজনদের তুরা শহরে পৌঁছে দেন।’ নজরুল জানিয়েছেন, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে মেঘালয়ে পালান ফয়সাল এবং আলমগীর শেখ।
এই খবর চাউর হতেই নতুন করে শোরগোল পড়ে যায়। তবে রবিবার মেঘালয় পুলিশ এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF)-এর পক্ষ থেকে যৌথভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যে আটক বা গ্রেপ্তারের দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। বিএসএফ সূত্রে খবর, তাদের জওয়ানরা এমন কাউকে আটক করেনি। একই সুর শোনা গেছে মেঘালয় পুলিশের গলাতেও। তাদের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির খবর সম্পূর্ণ অসত্য।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, স্পর্শকাতর এই মামলায় ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তদন্তের অভিমুখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চললেও, এই মুহূর্তে ওই দুই সঙ্গী পুলিশের জালে ধরা পড়েনি বলেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে, হাদি হত্যা রহস্যে এখনই কোনো বড় সাফল্যের দাবি করতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশ এই খুনের ঘটনার সঙ্গে ভারতকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। একাধিকবার সেই দেশের রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে এই হত্যার পেছনে ভারতের হাত আছে। খুনিরা ভারতে পালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এদিন সরাসরি প্রশাসনের তরফে এমন দাবি করায় সরকার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।
