সামসী: সরকারি বিধবা ভাতা প্রকল্পে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচলে। অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের প্রাপ্য সরকারি ভাতার টাকা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না গিয়ে জমা পড়ছে অন্য ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে (Widow Allowance Corruption)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁচল শহরের বাজারপাড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরিতা আগরওয়ালের দাবি, বিধবা ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও তিনি সরকারি ভাতার টাকা পাননি। অথচ সরকারি নথি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া ভাতার টাকা ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত অন্য একটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সরিতা দেবীর মতো আরও একাধিক উপভোক্তা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। অভিযোগ উঠেছে, কিছু সধবা মহিলাকে বিধবা হিসেবে নথিভুক্ত করে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের টাকা তছরুপ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। মালদা উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মার অভিযোগ, এই দুর্নীতির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিডিওর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে সরকারি টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে নেমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
