উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election Outcomes 2026) গণনা যত এগোচ্ছে, ততই যেন পাল্টাতে শুরু করেছে রাজনীতির রং। সকালের দিকে নিজের গড় ভবানীপুরে পিছিয়ে পড়লেও, তৃতীয় রাউন্ডের শেষে ফের লিড ফিরে পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই মুহূর্তে ৮৯৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তবে উল্টো চিত্র নন্দীগ্রামে। সেখানে ব্যবধান বাড়িয়ে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী এখন প্রায় সাত হাজার ভোটের লিড নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন।
ভবানীপুর মানেই টানটান উত্তেজনা। প্রথম দিকে পিছিয়ে পড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রত্যাবর্তন তৃণমূল কর্মীদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। তবে ব্যবধান মাত্র ৮৯৮ ভোটের হওয়ায় কোনো পক্ষই জয়ের দাবি করতে পারছে না। প্রতি রাউন্ডের গণনা শেষে পাল্টে যাচ্ছে ফলাফল। বিজেপির দাবি, ঘিঞ্জি এলাকার ইভিএম খুললে শুভেন্দু অধিকারী ফের বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ব্যবধানেই জয়ী হবেন।
ভবানীপুরে যখন কামব্যাকের লড়াই চলছে, তখন নন্দীগ্রামে ছবিটা একেবারেই আলাদা। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী প্রায় সাত হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে। তৃতীয় রাউন্ডের শেষে এই ব্যবধান তৃণমূল শিবিরের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। গত বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ছিল সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র, এবারও সেখানে শুভেন্দুর এই আধিপত্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
তৃতীয় রাউন্ড শেষে বোঝা যাচ্ছে যে এবারের নির্বাচনে একক কোনো পক্ষের ‘ঝড়’ দেখা যাচ্ছে না। বরং কেন্দ্র অনুযায়ী মানুষের রায় আলাদা হচ্ছে। হাই-ভোল্টেজ এই দুই কেন্দ্রই বলে দেবে শেষ পর্যন্ত বাংলার মসনদে কে বসবেন। ভবানীপুরের লিড কি মমতা ধরে রাখতে পারবেন? নাকি নন্দীগ্রামের মতো এখানেও শেষ হাসি হাসবেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)?
বাংলার কোটি কোটি মানুষের নজর এখন টিভির পর্দা আর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের দিকে। পরবর্তী রাউন্ডের গণনায় এই ব্যবধান আরও বাড়ে নাকি ফের পাসা উল্টে যায়, সেটাই এখন দেখার।
