অভিযোগ, ২০২৪-এর সেই অভিশপ্ত দিনে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে হাজির ছিলেন চিকিৎসক অভীক দে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর। চার সদদ্যের এই তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ডা. পার্থ প্রতিম প্রধান, ডা. মানস কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. সোমনাথ দাস, ডা. কৌশিক মিত্র। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন এ ভর্তির ক্ষেত্রে ডা. অভীক দে অনৈতিকভাবে সার্ভিস কোটা ব্যবহার করেছিলেন কি? তাও খতিয়ে দেখবে নতুন তদন্ত কমিটি।
আর জি কর কাণ্ডের পর শিরোনামে উঠে এসেছিল ‘থ্রেট কালচার’। সেক্ষেত্রেও নাম উঠে এসেছিল এই অভীক দে-র। অভিযোগ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে একচেটিয়া ‘দাদাগিরি’ চালাতেন তিনি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও অভীক। পরে এসএসকেএম হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি বিভাগে প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর ট্রেনি হন। আর জি কর কাণ্ডের পর তাঁকে নিলম্বিত করা হয়েছিল। আর জি কর কাণ্ডের পর তাঁর ভূমিকাও তদন্তকারীদের র্যাডারে ছিল।
আরও পড়ুন:
সোমবার রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। জানানো হয়েছে, গত বুধবার ৫ আগস্টের ভিজিল্যান্স শাখার নির্দেশেই নতুন কমিটি গঠন করা হল। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ জানান, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে চলছে থ্রেট কালচার। তার নেপথ্যে বীরুপাক্ষ বিশ্বাস আর ডা. অভীক দে। রাজ্যে পালাবদলের পর চলতি বছরের মে মাসে ডা. অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। অভিযোগ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আরএমও থাকাকালীন বেআইনিভাবে সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তা নিয়েও শুরু হয় তদন্ত।
এই তদন্ত বন্ধের আর্জি নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন ডা. অভীক দে। যদিও বিচারপতি অমৃতা সিনহা কিছুদিন আগে সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এবার নতুন তদন্ত কমিটির কারণে অভীক দে-র বিপদ আরও বাড়ল! এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েটে ভর্তির ক্ষেত্রে সার্ভিস কোটার কোন কোন সুবিধা নিয়েছিলেন অভীক দে। উল্লেখ্য, আর জি কর কাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে এসএসকেএমের চিকিৎসক-পড়ুয়া অভীকের উপস্থিতি নিয়েও উঠেছিল একাধিক অভিযোগ। ওই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও তিনি সেখানে কী করছিলেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে বহুবার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
