উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্ষেত্রে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (WBSEDCL Month-to-month Electrical energy Invoice)। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিদ্যুৎ বণ্টন ও সরবরাহ সংক্রান্ত বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তটি হলো, সিইএসসি-র ধাঁচেই এ বার থেকে প্রতি মাসে গ্রাহকদের বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল পাঠাবে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (ডব্লিউবিএসইডিসিএল)।
বিদ্যুৎ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এতদিন তিন মাস অন্তর বিল আসার ফলে গ্রাহকদের একসঙ্গে অনেকটা টাকা মেটাতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো। সাধারণ মানুষের সেই অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এবার থেকে প্রতি মাসে বিল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে আতঙ্ক ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল, এদিনের ভাষণে তারও অবসান ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যের প্রতিটি সাধারণ গৃহস্থালির বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো একেবারেই বাধ্যতামূলক নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়নি, তাই অকারণে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আপাতত সরকারি দফতর ও কার্যালয়গুলিতে দ্রুতগতিতে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলবে এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বর্তমান বিলিং ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
এ দিন বিদ্যুৎ চুরির মতো বেআইনি অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিষয়ে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করবে। এর পাশাপাশি রাজ্যের শিশুদের পুষ্টি ও পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এ বার থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক স্তরে ব্যাপক স্বস্তি মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

