উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ চার বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে কি থামতে চলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ? শনিবার মস্কোর ‘বিজয় দিবস’ (Victory Day)-এর অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) একটি মন্তব্য ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা। এদিন পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ‘শেষের পথে’ (Russia-Ukraine Conflict)। রাশিয়ার এই নমনীয় অবস্থানকে কয়েক বছরের মধ্যে মস্কোর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রস্তাবিত তিনদিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষই। এই শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন প্রত্যেকে ১০০০ জন করে বন্দি বিনিময় শুরু করেছে, যা যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বিনিময়। ওয়াশিংটনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এই রক্তক্ষয় বন্ধ দেখতে চাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়।’ তিনি এই সাময়িক বিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এবারের বিজয় দিবসে মস্কোর রেড স্কোয়ারে সামরিক শক্তির চিরাচরিত প্রদর্শন ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে সীমিত। কোনও ট্যাঙ্ক রাস্তায় নামেনি; পরিবর্তে ড্রোন ও মিসাইলের ছবি পর্দায় প্রদর্শিত হয়েছে। পুতিন তাঁর বক্তব্যে ন্যাটোর সমালোচনা করলেও ইউরোপের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যম হিসেবে তিনি জার্মানির প্রাক্তন চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারের নাম প্রস্তাব করেছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের প্রশ্নে পুতিন জানান, একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই কেবল বৈঠক সম্ভব।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। মস্কোর এই উদযাপনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রেড স্কোয়ারে কোনও হামলা চালাবে না। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখন ট্রাম্পের মধ্যস্থতা এবং পুতিনের এই নমনীয় মনোভাব বাস্তবেই শান্তি ফেরায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
