সন্ধে নামলেই বাঙালির তুলসীতলায় বেজে ওঠে শাঁখ। জ্বলে ওঠে প্রদীপের দীপ্ত শিখা। ছোট্ট প্রদীপের এই শিখাই বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্যের চাকা। জানেন কি? সলতের সামান্য হেরফেরেই রুখে দেওয়া যায় বাস্তুদোষ। কীভাবে? স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রে।

আরও পড়ুন:
বাস্তুবিদদের মতে, গৃহকোণের ঠাকুরঘর হল ইতিবাচক শক্তির মূল উৎস। সেখানে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিয়ম মেনে প্রদীপ দিলে কেটে যায় যেকোনও সমস্যা। ঘরে বারবার বাধা-বিপত্তি এলে প্রদীপের ধরন পালটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে শাস্ত্র। সলতের প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে সংসারের শ্রী।
শাস্ত্র বলছে, লম্বা ও গোল সলতের প্রভাব সম্পূর্ণ আলাদা। লম্বা সলতে মূলত ধনসম্পদ, শ্রীবৃদ্ধি এবং বংশরক্ষার প্রতীক। তাই দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, মা দুর্গা কিংবা কুলদেবতার চরণে সবসময় লম্বা সলতের প্রদীপ উৎসর্গ করা উচিত। এতে দেবী রুষ্ট হন না। ঘরের সমৃদ্ধি বজায় থাকে। অন্যদিকে, মানসিক শান্তি ও স্থৈর্য আনে গোল সলতে। তাই দেবাদিদেব মহাদেব, শ্রীবিষ্ণু কিংবা সংকটমোচনে বজরংবলীর আরতিতে গোল সলতে ব্যবহার করাই শ্রেয়। এতে মনের চঞ্চলতা দূর হয়।

শুধু সলতে নয়, আলোর অভিমুখও নির্ধারণ করে দেয় আপনার ভাগ্য। পূর্ব দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালালে আরোগ্য লাভ হয়, বাড়ে পরমায়ু। আবার উত্তর দিকে প্রদীপের শিখা রাখলে আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। খুলে যায় সাফল্যের রুদ্ধ দুয়ার।
সংসারে নিত্য অশান্তি লেগে থাকলে বাস্তুশাস্ত্রে রয়েছে বিশেষ টোটকা। গৃহকোণে প্রতিদিন ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো শুভ। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার পবনপুত্রের সামনে চামেলি তেলের প্রদীপ জ্বালালে দূর হয় সব নেতিবাচক শক্তি। আর যদি আর্থিক অনটন পিছু না ছাড়ে? তবে সলতে তৈরির সময় তাতে সামান্য চন্দন মাখিয়ে নিন। তারপর ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালান। সুগন্ধে ভরে উঠবে ঘর, ফিরবে সৌভাগ্য। প্রদীপের এক চিলতে আলোই হয়ে উঠবে আপনার গৃহকোণের রক্ষাকবচ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
