কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের হামলার জেরে মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাগরিকের। আহত হয়েছেন ৬৮ জন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন ভারতীয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করল দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে আবারও হিংসা থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কখনই বেসামরিক জনগোষ্ঠী এবং বেসামরিক অবকাঠামোর উপর হামলা করা উচিত নয়।
বুধবার কুয়েতের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, “কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজকের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যেখানে একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। আমাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন।” আরও বলা হয়েছে, “পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছি যে, বেসামরিক জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে যেন লক্ষ্যবস্তু করা না হয়। আমরা সমস্ত পক্ষকে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার জন্য আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুন:
বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে, কুয়েতের ভারতীয় দূতাবাস আহত ভারতীয়দের প্রয়োজনীয় সাহায্য করছে। শোকবার্তায় বলা হয়েছে, “আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আমাদের দূতাবাস আহতদের সব ধরনের সাহায্য করছে। ভারতীয় নাগরিকদের সুবিধার্থে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছি।”
আরও পড়ুন:
কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল্লা আল-সানাদ জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানবন্দর। মোট ৬৩ জন আহত হয়েছেন। একাধিক হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের পরেই ঘটনাস্থলে ২৫টি অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়। এদিকে এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়ে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কুয়েত প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সবরকম সাহায্য করবে। কুয়েতের অসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার হামলার জেরে বন্ধ রয়েছে দেশটির বিমান চলাচল।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য সাগর, হরমুজ প্রণালী ও কেশন দ্বীপে মার্কিন হানার ‘বদলা’ নিতেই তারা কুয়েতে হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবিও করেছে তারা। এদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে দেশের বহু অংশে। সেদেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইরানের সেনার শেয়ার করা একটি ভিডিওয় বাহরিনের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গিয়েছে। গত কয়েকদিনে যুদ্ধের আগুনে হাওয়া দিতে শুরু করেছে দুই পক্ষই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
