উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram Controversy)-এর গায়কী ও এর পরের স্তবকগুলো নিয়ে প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের (Sharmila Tagore) মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কে সরব হলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। শর্মিলা ঠাকুর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মত প্রকাশ করেছিলেন যে, বন্দে মাতরম-এর প্রথম দুটি স্তবকই যথেষ্ট। তাঁর মতে, পরের স্তবকগুলোতে বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর উল্লেখ থাকায়, যারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী (monotheistic), তাদের জন্য এই গানটি গ্রহণ করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গনা রানাউত তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শর্মিলা ঠাকুরকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কঙ্গনা লিখেছেন, “আমি শর্মিলাজিকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দেখে আমি অবাক। শিল্প বা কবিতায় শব্দগুলো নিছক রূপক মাত্র। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’-এর মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্পিরিট ও দেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা ‘শক্তি’কে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একে নিছক ধর্মীয় চর্চার মাপকাঠিতে মাপা যায় না।” কঙ্গনা আরও যুক্তি দেন, বিবেকানন্দ যখন ‘ইস্পাতকঠিন যুবক’ তৈরির কথা বলেছিলেন, তখন তিনি কোনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেননি, বরং মানুষের ভেতরের ‘শক্তি’কেই জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। গানের প্রথম দুই স্তবকে দেশমাতৃকার বন্দনা থাকলেও, পরবর্তী স্তবকগুলোতে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো দেবীদের উল্লেখ রয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং গানের গায়কী নিয়ে অতীতেও বারবার বিতর্ক হয়েছে। কংগ্রেস দলের ১৯৩৭ সালের অবস্থান অনুযায়ী, দলীয় অনুষ্ঠানে কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ারই নিয়ম রয়েছে।
বিতর্কটি নতুন মোড় নেয় যখন প্রবীণ অভিনেতা মুকেশ খান্না দাবি করেন, ‘জনগণমন’-এর পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’-কে ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি ছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘জনগণমন’ নাকি রানি এলিজাবেথের প্রশংসায় লেখা হয়েছিল। স্বাধীনতার ইতিহাসের এই দুই স্তম্ভকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক ও শিল্পীদের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কঙ্গনা এবং শর্মিলা ঠাকুরের এই দ্বৈরথ এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

