Uttarakhand | হরিদ্বারে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ভাবনা উত্তরাখণ্ড সরকারের! মুখ্যমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

Uttarakhand | হরিদ্বারে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ভাবনা উত্তরাখণ্ড সরকারের! মুখ্যমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি সরকার। তীর্থনগরী হরিদ্বার এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অ-হিন্দুদের প্রবেশাধিকার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে রাজ্য প্রশাসন। আসন্ন কুম্ভমেলার প্রস্তুতির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী ধামির এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেন, “হরিদ্বার একটি অত্যন্ত পবিত্র শহর। এর মাহাত্ম্য এবং আধ্যাত্মিক চরিত্র বজায় রাখা আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। অ-হিন্দুদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত পুরনো আইন এবং বিদ্যমান নিয়মগুলি আমরা খতিয়ে দেখছি। দেবভূমির মর্যাদা রক্ষায় যা যা করণীয়, সরকার সেই সমস্ত বিকল্পই খতিয়ে দেখছে।”

হরিদ্বারের ‘হর কি পৌরি’ সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে অ-হিন্দুদের প্রবেশে প্রতীকী নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনও বিষয় নয়। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৬ সালে ভারতরত্ন পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। গঙ্গার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ এবং হরিদ্বার-ঋষিকেশের পবিত্রতা বজায় রাখাই ছিল সেই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। পরবর্তীকালে হরিদ্বার পুরসভার উপ-আইনেও এই বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বর্তমানে হরিদ্বার থেকে ঋষিকেশ পর্যন্ত মোট ১০৫টি গঙ্গা ঘাট রয়েছে। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র ‘হর কি পৌরি’ নয় বরং সমস্ত ঘাটে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে ধর্মীয় গুরুদের সংগঠন এবং ‘শ্রী গঙ্গা সভা’র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার।

সরকারের এই চিন্তাভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন নিরঞ্জনী আখড়ার আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী কৈলাশানন্দ গিরি। তিনি বলেন, “গঙ্গা তীরের পবিত্রতা রক্ষায় ধামি সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি যেন হরিদ্বারকে পূর্ণ ‘পবিত্র শহর’ ঘোষণা করে সেখানে অ-হিন্দুদের প্রবেশ ও রাত কাটানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।”

হরিদ্বারে প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তবে সম্প্রতি গঙ্গার ঘাটগুলোতে অ-হিন্দু পর্যটকদের উপস্থিতি এবং আচরণ নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের পরই রাজ্য সরকার আইনগত দিকগুলি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *