উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ (MoU)-এর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ভারতমুখী অন্তত ১১টি জাহাজ নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে। যদিও পরিস্থিতির সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়া এখনও বাকি, কারণ এখনও ২৬টি জাহাজ হরমুজ পার হওয়ার অপেক্ষায় পারস্য উপসাগরে নোঙর করে রয়েছে।
আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড়ো ধাক্কা লেগেছিল। বিশেষ করে ১১ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারত তার বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে ভারতের উপকূলে পৌঁছেছে। এই ৩০টি জাহাজের মধ্যে ১৭টি জাহাজ অন্য দেশের পতাকাবাহী হলেও সেগুলি ভারতমুখী ছিল।
গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। আধিকারিকদের দাবি, ১ মার্চ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে ১৯টি জাহাজ পারাপার করেছিল, এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে আরও ১১টি জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছে। যে জাহাজগুলি এখনও অপেক্ষমান, তার মধ্যে অন্তত তিনটি জাহাজে জ্বালানি রয়েছে, ১০টিতে সার এবং বাকি ১৩টিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে।
ভারতমুখী জাহাজগুলির তালিকায় বড় একটি অংশ দখল করে আছে এলপিজি (LPG) এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। জ্বালানি সরবরাহের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ভারতের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, হরমুজের পরিস্থিতি কখনোই আর আগের মতো হবে না। এই অনিশ্চয়তা মাথায় রেখেই কোনো ধরনের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এড়াতে ইরান একটি ‘টেলিফোন হটলাইন’ চালুর প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের সময় প্রয়োজনে এই হটলাইন ব্যবহার করা যাবে।
পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। আপাতত ভারত তার প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী নিরাপদে আনার কাজ চালিয়ে গেলেও, ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথই নির্ধারণ করবে এই জলপথের স্থায়িত্ব।

