দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: জল জীবন মিশন প্রকল্পে উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলায় প্রথম পর্যায়ের ৬০৯ কোটি ৭ লক্ষ টাকার কাজ শেষ হয়ে ঠিকাদাররা টাকাও পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৩৪ কোটি টাকার কাজ থমকে রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে টাকা না মেলায় ঠিকাদাররা কাজ করছেন না বলে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই) (PHE) সূত্রে খবর। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবর্ষের মধ্যে জেলার অন্তত ৬০ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। সোমবার কর্ণজোড়ায় জেলা প্রশাসনিক ভবনে পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। দপ্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, হেমতাবাদ ও কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক যথাক্রমে হরিপদ বর্মন ও উৎপল ব্রহ্মচারী, জেলা শাসক অভিজিৎ শেভালে, পুলিশ সুপার সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ এবং মহকুমা শাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।
জেলায় পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৫ লক্ষ ৮১ হাজার ৪৯২টি থাকলেও মাত্র ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৫২টি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সংযোগ দেওয়ার হার যে সন্তোষজনক নয়, তা বুঝতে পেরে কোথায় কাজ আটকে রয়েছে এবং কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা জানতে চান মন্ত্রী ভাস্করবাবু। তিনি জানতে পারেন, বকেয়া বিল বা টাকা না পাওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ঘরে কীভাবে জল পৌঁছাবে, কোথায় নজর দিতে হবে এবং কোথায় কাজ আটকে রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে শেষ করতে এবং প্রতিটি মানুষের বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দিতেই এই বৈঠক।’ ঠিকাদারদের বকেয়া টাকা পরিশোধের চেষ্টার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভাস্করবাবু বলেন, ‘প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে। কেন এতদিন ঠিকাদাররা তাঁদের পাওনা পাননি, তার জবাব আগের সরকারকে দিতে হবে।’ এদিকে পিএইচই-র এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, বকেয়া না পাওয়ায় এজেন্সিগুলি কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে মন্ত্রীর নির্দেশমতো চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই ৬০ শতাংশ বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অল বেঙ্গল পিএইচই কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের তরফে অজিত প্রামাণিক বলেন, ‘দু’বছর ধরে কোনও পেমেন্ট মেলেনি। ১৩০ জন ঠিকাদার চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। বকেয়া না মেটালে কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়।’
মন্ত্রী দ্রুত সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সংযোগ দেওয়া হলেও পানীয় জল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যেমন, বিন্দোলের বাসিন্দা মনসুর আলির অভিযোগ, তাঁদের অঞ্চলের ১০ শতাংশ মানুষ এখনও জল পান না। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

