উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Meeting Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন (Election Fee)। এই ‘মধ্যরাতের বদলি’কে নজিরবিহীন এবং ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত’ বলে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। সোমবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখে নিজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। তবে চিঠির শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হাতে লিখে ‘অল দ্য বেস্ট’ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে দাবি করেছেন, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। সাধারণত, নির্বাচনের সময় আধিকারিক বদল করতে হলে কমিশন রাজ্যের কাছে তিনজনের একটি প্যানেল চায়। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সৌজন্য মানা হয়নি বলে মমতার অভিযোগ। তিনি একে ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করে জানিয়েছেন, এর ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে।
সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা স্বীকার করেও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ন্যূনতম প্রশাসনিক সৌজন্য থাকা বাঞ্ছনীয়। কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অসদাচরণের উল্লেখ ছাড়াই কেন এই রদবদল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ কমিশনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
নবান্ন সূত্রের খবর, নির্বাচনের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই পরিবর্তনগুলি বাধার সৃষ্টি করতে পারে। শাসকদল কমিশনের এই অতিসক্রিয়তার সমালোচনা করলেও, বিরোধী শিবির একে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। তবে চিঠির শেষে টাইপ করা অংশের নিচে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে লেখা ‘অল দ্য বেস্ট’ বার্তার অন্তর্নিহিত অর্থ কী, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
