উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) নাটকীয়ভাবে বন্দি করার নেপথ্যে কী কোনো ‘অদৃশ্য’ প্রযুক্তি (US secret weapon) কাজ করেছিল? ৩ জানুয়ারি মার্কিন সেনার সেই দুঃসাহসিক অভিযানের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে সেই রহস্যের ওপর থেকে পর্দা সরালেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভিযানে এমন এক গোপন ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশ্বের আর কোনো দেশের কাছে নেই।
সম্প্রতি ‘নিউজ নেশন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা যে অস্ত্র প্রয়োগ করেছে, তা সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। এটি এক অভূতপূর্ব এবং দুর্দান্ত আক্রমণ ছিল।” তবে সেই অস্ত্রের প্রযুক্তিগত (Secret Expertise) নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ট্রাম্প একে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে শত্রুপক্ষ অন্ধকারে থাকলেই আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? মাদুরোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী সেনাকর্মীর বয়ান এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অভিযানের শুরুতে হঠাৎ করেই তাঁদের রাডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। এরপর একঝাঁক ড্রোন ও আট-দশটি হেলিকপ্টার থেকে জনা কুড়ি মার্কিন কমান্ডো নেমে আসে। কিন্তু আসল চমক ছিল একটি শব্দ। ওই সেনাকর্মী জানান, আচমকা এক ভয়াবহ তীব্র আওয়াজ শোনা যায়। সেই শব্দের দাপটে নিরাপত্তারক্ষীদের মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়, অনেকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে এবং কেউ কেউ রক্তবমি করে সংজ্ঞা হারান। মুহূর্তের মধ্যে গোটা সুরক্ষা বলয় ভেঙে পড়ে এবং মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আমেরিকা এই অভিযানে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সোনিক ওয়েপন’ (Sonic Weapon) বা শব্দ-অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই ধরনের অস্ত্র উচ্চ-তীব্রতার শব্দতরঙ্গ নির্গত করে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে সাময়িকভাবে বিকল করে দিতে পারে। ট্রাম্পের রহস্যময় মন্তব্য এবং ভেনেজুয়েলার সেনার বর্ণনা— দুইয়ে মিলে এখন বিশ্বের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত যে, যুদ্ধের ময়দানে নিঃশব্দে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো এক বিধ্বংসী প্রযুক্তি পকেটে পুরে ফেলেছে ওয়াশিংটন।
