বরুণকুমার মজুমদার, করণদিঘি: ‘যত দোষ, এআই ঘোষ’- ইদানীং রাজনৈতিক মহলে এই পরিবর্তিত প্রবাদ ঘুরপাক খাচ্ছে! কোনও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেই, অভিযুক্তের তরফে তা এআই-নির্মিত বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পালের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) ভাইরাল হয়। তৃণমূল সেই ভিডিওকে ‘এআই মেড’ বলে দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও বানিয়ে বিধায়কের ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগে সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
করণদিঘির বিধায়কের কাটমানি লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতেই অস্বস্তিতে পড়েন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। রায়গঞ্জের আইনজীবী মনোতোষ সরকার জেলা প্রশাসনের কাছে ভিডিও নিয়ে তদন্তের আবেদন জানানোর পর তৃণমূল মহলে আরও তৎপরতা বাড়ে। মঙ্গলবার ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ ব্লক তৃণমূল যুব নেতা ইমাম হোসেন। এরপরই জেলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
করণদিঘি (Karandighi) ব্লক কংগ্রেস সভাপতি ভবেন ঘোষ বলেন, ‘ঠিকাদারি কাজের কাটমানি নেওয়া তৃণমূলের রীতি। বিগত দিনে সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়কদের টাকা নেওয়ার ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওপরমহলে বিধায়কদের কাটমানি পাঠাতে হয়। না হলে টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ বিজেপির জেলা কমিটির সহ সভাপতি সুরজিৎ সেনের অভিযোগ, ‘কাটমানি নেওয়ার অনুপ্রেরণা তো দিদিই। বিভিন্ন মঞ্চে তিনি বলেছেন, ৭৫% ওপরে দাও, ২৫% রেখে দাও।’
এর প্রতিবাদে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুভাষচন্দ্র সিনহা বলেন, ‘বিধায়ক গৌতম করণদিঘির নব রূপকার। উন্নয়নের কান্ডারি। তাই বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে এআই ভিডিও তৈরি করে ছেড়েছে। এভাবে বিধায়ককে কালিমালিপ্ত করে দমানো যাবে না।’
এদিকে যাকে কেন্দ্র করে এত বিতর্ক, সেই বিধায়ক গৌতমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘মিটিংয়ে আছি’ বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
ভিডিওতে শুনতে পাওয়া অন্যজনের কণ্ঠস্বর প্রসঙ্গে করণদিঘি ব্লকের লাহুতারা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আবু সামা বলেন, ‘ভিডিওতে বিধায়কের সঙ্গে যার কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তিনি লাহুতারা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ফজলুর রহমানের ভাই বজলু রহমান। তাঁর বাড়ি দুলেপুর গ্রামে।’
যদিও বজলু রহমান ফোনে দাবি করেন, ‘যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে আমার কণ্ঠস্বর নেই।’
