উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কাটাতে এবার বড় ভূমিকা নিতে পারে পাকিস্তান (Pakistan)। এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার (US-Iran Talks) সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে ইসলামাবাদের (Islamabad) নাম। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানীতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই ঐতিহাসিক বৈঠক হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণার পরই এই কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর। ইজরায়েলি আধিকারিকদের দাবি, দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে এই তিন দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। খবর রটেছে যে, ওয়াশিংটনের হয়ে এই আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (JD Vance)। যদিও ইজরায়েল এই মধ্যস্থতার বিষয়ে অবগত ছিল, তবুও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী আলোচনার অগ্রগতি এবং একাধিক বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার খবরে কিছুটা বিস্মিত তেল আভিভ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আঞ্চলিক শান্তি ফেরাতে ইসলামাবাদ সবরকম সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। সূত্রের খবর, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তিনি পাঁচ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আলোচনা সফল হলে আমরা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাব।’ অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য সরাসরি আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের মুখপাত্রের দাবি, গত ২৪ দিনে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।
তুরস্ক ও মিশরের বিদেশ মন্ত্রীরা যখন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন ইসলামাবাদের এই সম্ভাব্য বৈঠক গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে। যুদ্ধের দামামা থামিয়ে কি শেষ পর্যন্ত কূটনীতি জয়ী হবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।
